কলকাতা: দক্ষিণ আসানসোলের বিজেপি বিধায়িকা অগ্নিমিত্রা পাল জানান, ২০১৯ সালে ডোরিনা ক্রসিংয়ে আয়োজিত একটি গণতান্ত্রিক সভাকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সভায় ১১ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন এবং প্রত্যেকের নামে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার আওতায় আন্দোলন করা সাংবিধানিক অধিকার এবং মতপ্রকাশ বা প্রতিবাদ কোনোভাবেই অপরাধ হতে পারে না। কিন্তু বাস্তবে প্রতিবাদ করলেই পুলিশি নির্যাতন ও মামলার মাধ্যমে কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিধায়িকা পাল কটাক্ষ করে বলেন, মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সময় বিরোধীদের ‘স্পেস’ দেওয়ার কথা বলেছিলেন, কিন্তু বর্তমানে সেই স্পেস কীভাবে দেওয়া হচ্ছে তা সকলেই দেখছেন। সাংবিধানিক পদে থেকে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় না থাকলে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিজেদের সুবিধামতো ঘটনাগুলির ব্যাখ্যা দিচ্ছে, ফলে বাংলার মানুষ হিন্দু বা মুসলিম, বিভ্রান্ত হচ্ছেন। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এবং অভিষেক ব্যানার্জি এর বিরুদ্ধে স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
এসআইআর-সংক্রান্ত ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুনেতে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ব্যক্তিগত বিবাদ ও নেশাগ্রস্ত অবস্থার কারণে ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে, যা এসআইআরের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ঝাড়খণ্ডে আরেক সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রথমে খুনের অভিযোগ উঠলেও পরে তা আত্মহত্যা বলে জানানো হয় এবং এসআইআরের সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করা হয়। এই ঘটনাগুলি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে তাঁর দাবি।
অন্যদিকে, বেলডাঙায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাতীয় সড়ক অবরোধ থাকায় সব সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া আনন্দপুরে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বহু মানুষের জীবন প্রভাবিত হয়েছে বলেও জানান।
শেষে তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ওই আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে আজ ব্যাংকসাল আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিতে হয়েছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে বিজেপি উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার লিগ্যাল সেল সদস্য দেবাঙ্গের সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।











