বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম গহনা বিক্রেতা এবং ভারতের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার শীর্ষস্থানীয় সংস্থা, মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস, ইথিওপিয়ায় তাদের ফ্ল্যাগশিপ ‘হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড’ উদ্যোগের সম্প্রসারণ করেছে । ভারত এবং জাম্বিয়ায় এর রূপান্তরমূলক সাফল্যের পর, এই উদ্যোগটি এখন আফ্রিকান মহাদেশে তার বৃদ্ধির পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করছে।
ভারতের সহমর্মিতা ও সমষ্টিগত অগ্রগতির ভাবনা থেকে জন্ম নেওয়া হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড মডেলটি দেখায় কীভাবে ভারতীয় উদ্যোগ স্থানীয় সাফল্যকে ভিত্তি করে বিশ্বব্যাপী প্রভাব তৈরি করতে পারে। নেট মুনাফার ৫% নিয়মিতভাবে বিনিয়োগ করে— যা ভারতে নির্ধারিত সিএসআর নিয়মের তুলনায় দ্বিগুনের বেশি মালাবার কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিসরকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ভারতের পরীক্ষিত এই মডেলকে ভিত্তি করে মালাবার এখন বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা ও শিক্ষাগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে এক বৈশ্বিক আন্দোলন গড়ে তুলছে।
দুবাই গোল্ড সুকে অবস্থিত মালাবার ইন্টারন্যাশনাল হাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করা হয়। সেখানে শ্রী আবদুল সালাম কে.পি, ভাইস চেয়ারম্যান, মালাবার গ্রুপ আনুষ্ঠানিকভাবে লেটার অফ ইন্টেন্ট তুলে দেন দুবাইয়ে ইথিওপিয়ার কনসাল জেনারেল হি. ই. আসমেলাশ বেকেলে-র হাতে। অনুষ্ঠানে মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস-এর ম্যানেজমেন্ট টিমের সিনিয়র সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড প্রোগ্রামটি মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস-এর অন্যতম প্রভাবশালী ইএসজি (পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসন) উদ্যোগ। বর্তমানে এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ১১৯টি স্থানে প্রতিদিন ১,১৫,০০০-এরও বেশি খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। ইথিওপিয়ায় সম্প্রসারণের এই পদক্ষেপটি এসেছে জাম্বিয়ায় উদ্যোগটির সফল বাস্তবায়নের পর, যেখানে ২০২৪ সালের মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত তিনটি বিদ্যালয়ে ৯,০০,০০০-এরও বেশি খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।
শ্রী এম.পি. আহাম্মদ, চেয়ারম্যান, মালাবার গ্রুপ বলেন, “হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড মালাবার গ্রুপের অন্যতম অর্থবহ ইএসজি উদ্যোগ। একজন দায়িত্বশীল জুয়েলার হিসেবে, আমরা যেসব সম্প্রদায়কে সেবা দিই তাদের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার ব্যবসার সীমারেখার বাইরেও বিদ্যমান। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তা আমাদের স্থায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধির দৃষ্টিভঙ্গির একটি শক্তিশালী প্রমাণ। ইথিওপিয়া সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা আগামী দুই বছরে ৮,৬৪,০০০ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করব। আমাদের লক্ষ্য— ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত দৈনিক ১০,০০০ শিশুর কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়া, পাশাপাশি শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষার প্রসার ঘটানো।”
শ্রী আবদুল সালাম কে.পি, ভাইস চেয়ারম্যান, মালাবার গ্রুপ বলেন, “প্রতিষ্ঠার প্রথম দিন থেকেই সমাজের উন্নয়ন আমাদের ব্র্যান্ডের মূল সত্তার অংশ। হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দেখেছি, প্রতিদিনের পুষ্টি শুধু একজন মানুষের নয়, পুরো একটি সম্প্রদায়ের জীবন বদলে দিতে পারে। এই প্রোগ্রামটিকে ইথিওপিয়ায় সম্প্রসারণ করা আমাদের বৈশ্বিক লক্ষ্য— ক্ষুধা দূরীকরণ ও শিক্ষায় সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যেসব শিশু ও পরিবার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে, তাদের জীবনে বাস্তব, স্থায়ী পরিবর্তন আনতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।”
হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড প্রোগ্রামের সম্প্রসারণটি জাতিসংঘের সাস্টেনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস এর সঙ্গে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ— বিশেষত জিরো হাঙ্গার, গুণগত শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা এবং লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারিত্ব। ইথিওপিয়ায় প্রকল্পটি একটি সম্প্রদায়ভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করবে, যেখানে অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্থানীয় স্কুলগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরবরাহকারী ও পার্টনারদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সম্প্রদায়ের সম্পূর্ণ মালিকানা নিশ্চিত করা হবে।
শ্রী শামলাল আহামেদ, এমডি–ইন্টারন্যাশনাল অপারেশনস, মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আর্থ-সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে,পুষ্টিকর খাদ্য ও মানসম্মত শিক্ষার অধিকার প্রতিটি শিশুর। ইথিওপিয়ায় হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড উদ্যোগের সম্প্রসারণ আমাদের সেই দৃঢ় বিশ্বাস থেকেই। এই দুই ভিত্তিই একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের মূল স্তম্ভ। প্রোগ্রামের প্রথম পর্যায়ে আমরা কাজ করব ওরোমিয়া অঞ্চলের আদামা সিটি-র ৫টি বিদ্যালয়ের সঙ্গে, যেখানে প্রায় ১১,০০০ শিশু পড়াশোনা করে। স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের পাশাপাশি ইথিওপিয়ায় আমাদের উদ্যোগগুলোর মধ্যে থাকবে বৃত্তি প্রদান, মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম, ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধি, লাইব্রেরি উন্নয়নসহ আরও নানা কার্যক্রম। ইথিওপিয়া সরকারের অমূল্য সহায়তায় এই মিশন আমাদের সমন্বিত উন্নয়ন ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিকে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরছে।“
১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মালাবার গ্রুপের মূল অঙ্গীকার ছিল ইএসজি (পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসন) উদ্যোগকে কেন্দ্রে রাখা। যে যে দেশে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম পরিচালনা করে, সেখানেই এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য তারা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য, হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড, আবাসন, শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন এবং পরিবেশ এই ছয়টি ক্ষেত্রই তাদের প্রধান ফোকাস। সমাজসচেতন ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে থেকে যেতে, মালাবার গ্রুপ তাদের ইএসজি লক্ষ্যমাত্রাকে সময়ে সময়ে আরও উন্নত ও শক্তিশালী করে তুলছে।









