সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলে আরার শহরের নিকটবর্তী প্রাচীন গুহাগুলো থেকে চিতাবাঘের প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত অবশেষ আবিষ্কৃত হওয়ায় বৈজ্ঞানিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। খননকাজের সময় গবেষকরা সাতটি চিতাবাঘের মমি এবং আরও ৫৪টি চিতাবাঘের হাড় উদ্ধার করেছেন। এসব অবশেষের আনুমানিক বয়স ১৩০ বছর থেকে শুরু করে ১৮০০ বছরেরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানে ‘মমি’ শব্দটি এমন মৃতদেহকে বোঝায়, যা কোনো মানবসৃষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নয়, বরং গুহার শুষ্ক পরিবেশ, তাপমাত্রা ও রাসায়নিক গঠনের মতো প্রাকৃতিক পরিস্থিতির কারণে সংরক্ষিত হয়েছে। চিতাবাঘের হাড় ও টিস্যু ত্বকের সঙ্গে লেগে থাকা অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা তাদের অসাধারণ সংরক্ষণ অবস্থার ইঙ্গিত দেয়।

এই আবিষ্কারটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটিই প্রথমবার প্রাকৃতিকভাবে মমি হয়ে যাওয়া কোনো বিড়ালজাত প্রাণীর জিনের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চিতাবাঘের জিনগত বিবর্তন, তাদের জনসংখ্যার বিস্তার এবং সময়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া পরিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
গবেষকদের মতে, এসব অবশেষ স্পষ্ট প্রমাণ দেয় যে প্রাচীনকালে আরব উপদ্বীপে চিতাবাঘের উপস্থিতি ব্যাপক ছিল। পাশাপাশি, এই আবিষ্কার সেই সময়কার পরিবেশ, জলবায়ু এবং মানব-ও-वन্যপ্রাণীর সম্পর্ক নিয়েও নতুন আলোকপাত করতে পারে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, ভবিষ্যৎ গবেষণার মাধ্যমে জানা যাবে এই চিতাবাঘগুলো স্থানীয় ছিল নাকি অন্য কোনো অঞ্চল থেকে এখানে আনা হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যের বন্যপ্রাণীর ইতিহাস অধ্যয়নে এই আবিষ্কারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।










