আহমেদাবাদ: দীর্ঘদিনের টি-২০ বিশ্বকাপের লড়াইয়ের পর ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়ের পর এবার টি-২০ বিশ্বকাপকে পাখির চোখ সূর্যকুমারদের। সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে কিউয়িরা একপেশে জয় পেলেও ভারতকে ফাইনালে ওঠার জন্য ইংল্যান্ডকে হারাতে কিন্তু যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। তবে ফাইনালে কিন্তু ভারতই ফেবারিট সেটা বলার অপেক্ষা থাকে না। এর আগে কোনও দল পরপর দুইবার বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের সমস্যা স্পিন বোলিং। বরুণ চক্রবর্তী ফর্মে নেই। ফর্মে নেই ওপেনার অভিষেক শর্মাও। সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হচ্ছে ম্যাচ। সাড়ে ৬টায় হবে টস। স্টার স্পোর্টসের পাশাপাশি ডিডি স্পোর্টসেও দেখা যাবে ম্যাচ। ডিডি স্পোর্টসে ফ্রিতে দেখা যাবে ম্যাচ। তবে থাকতে হবে ফ্রি ডিশ। লাইভ স্ট্রিমিং দেখতে পাবেন হটস্টারে। সেক্ষেত্রে কিন্তু সাবস্ক্রিপশন নিতে হবে। এই ফাইনাল ম্যাচে পিচ কেমন হবে সেটা নিয়েও মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে। শোনা যাচ্ছে হাইব্রিড পিচ হবে। সেক্ষেত্রে লাল মাটির পাশাপাশি কালো মাটি মিশিয়ে দেওয়া হবে। প্রায় সমান সুবিধা পাবেন ব্যাটার ও বোলাররা। জসপ্রীত বুমরা দারুণ ছন্দে। বরুণ ছন্দ ফিরে পেলে ভারতের বোলিং লাইন আপ আরও শক্তিশালী হবে। এছাড়া হার্দিক পান্ডিয়া ব্যাটের পাশাপাশি ভালো বল ও করছেন। তবে ফাইনালে বরুণকে বসিয়ে কুলদীপ কে খেলানোর একটা সম্ভাবনা রয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে টি২০ সিরিজেও দারুণ বল করেছিলেন কুলদীপ। তাই ফাইনালে তাঁকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্যাট হাতে দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন সঞ্জু স্যামসন ও শিবম দুবে। ব্যাট হাতে দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন সঞ্জু স্যামসন ও শিবম দুবে। তিলক বর্মাও মিডল অর্ডারে ঝড় তুলছেন। ফাইনালের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে এসে ভারতকে চাপে রাখতে মাইন্ডগেম খেললেন কিউয়ি অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেছিলেন, নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামকে চুপ করিয়ে দেবেন। বাস্তবেও সেটাই হয়। তারপর থেকে বহুবার ভারতকে ‘চুপ করিয়ে দেব’ হুমকি দিয়েছে বিপক্ষ। স্যান্টনার অবশ্য চুপ করানোর চেয়েও নির্দয় বার্তা দিলেন। ফাইনালের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বললেন, “ট্রফি জেতার জন্য ছোটখাট চেষ্টাগুলোও করন। ট্রফি জেতার জন্য কিছু হৃদয় ভাঙতে হলেও সমস্যা নেই।” ফাইনাল নিয়ে উন্মাদনায় ভাসছে ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা। এখান দেখার নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ভারত টি-২০ বিশ্বকাপ জিততে পারে কি না।এদিকে সাংবাদিকে ঠাসা সম্মেলনে স্যান্টনার আরও জানান, “এখনও উইকেট দেখিনি। তবে রান উঠবে অনেক। বিশ্বকাপের আগে পাঁচটা ম্যাচ খেলেছি সেখানেও ভালো পিচ ছিল। টুর্নামেন্টে আমরা ধাপে ধাপে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছি। প্রথমে গ্রুপ পর্ব, সেখান থেকে সুপার এইট, তারপর সেমিফাইনাল। গোটা টিম খুবই উত্তেজিত। বিশেষ করে গত ম্যাচটা যেভাবে জিতেছি তাতে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। ভারতও একইভাবে আত্মবিশ্বাস পেয়েছে সেমিফাইনাল থেকে।” উল্লেখ্য, ২০২৩ ফাইনালে স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়ে ভারতের ভরাডুবি হয়েছিল। এবার একেবারে পাটা পিচ থাকছে আহমেদাবাদে। ভারতের প্রশংসা করতে স্যান্টনার এতটুকু কার্পণ্য করেননি। তাঁর মতে, গোটা টুর্নামেন্টে ভারতের প্রত্যেকেই বল এবং ব্যাট হাতে প্রয়োজনের সময়ে ভালো পারফর্ম করেছেন। বরুণ চক্রবর্তীর ফর্ম খারাপ থাকলেও সেটা কিউয়িদের কোনও অ্যাডভান্টেজ দেবে না। বরং বিশ্বকাপের অন্যান্য ম্যাচগুলোর মতোই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে ফাইনালে খেলবেন টিম সাইফার্টরা। গত ১১ বছরে পাঁচবার আইসিসি ফাইনালে উঠেছে কিউয়িরা। মাত্র একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ষষ্ঠবারে ছবিটা পালটাতে চান স্যান্টনার। বলছেন, “আমরা ফেভারিট নই। কিন্তু নিজেদের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করলে ট্রফি জেতার মতো পরিস্থিতি আসতেই পারে আমাদের।” আবারও কি আহমেদাবাদ স্টেডিয়ামে ভাঙবে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়? নাকি এবার পালটে যাবে ‘অপয়া’ ইতিহাস?









