দার্জিলিং: দার্জিলিং লোকসভা সাংসদ রাজু বিষ্ট পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ড. সি. ভি. আনন্দ বোস, জাতীয় তফসিলি জনজাতি কমিশন (এনসিএসটি) এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি)-র নিকট দার্জিলিং জেলার ফাঁসিদেওয়া থানার অন্তর্গত ঝামকলাল গ্রামে এক তফসিলি জনজাতি মহিলার উপর সংঘটিত ভয়াবহ হিংসা ও শারীরিক আক্রমণের ঘটনায় অবিলম্বে হস্তক্ষেপের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জানান।
সামাজিক মাধ্যমে সাংসদ জানান যে, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা আদিবাসী মহিলা ও তাঁর পরিবার তাঁদের পৈতৃক জনজাতীয় জমির অবৈধ হস্তান্তর ও দখলের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করলে সেই সময় মোহাম্মদ কাদির আলি ও তাঁর সহযোগীরা মহিলার উপর নির্মমভাবে হামলা চালায়। কএই নৃশংস আক্রমণের ফলে ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই শিশুর জন্ম হয়। মায়ের উপর হামলার কারণে নবজাতক গুরুতর অভ্যন্তরীণ আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং জন্মের তিন দিনের মধ্যেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
এই প্রসঙ্গে সাংসদ উল্লেখ করেন যে, ডিসেম্বর ২০২৫-এই অভিযোগ দায়ের করা হলেও ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ সময়মতো ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। শিশুর মৃত্যুর পরেই কেবল সীমিত পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং এখনও পর্যন্ত মাত্র একজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতে প্রশাসনিক উদাসীনতা এবং অপরাধীদের রক্ষা করার সম্ভাব্য প্রচেষ্টা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সাংসদ আরও অনুরোধ করেন, ঘটনাটি অবিলম্বে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে তফসিলি জাতি ও জনজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সকল অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলা করা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত, জনজাতীয় জমির অবৈধ হস্তান্তর বিষয়ে স্বাধীন অনুসন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের দাবিও জানান।
শেষে সাংসদ বিষ্ট বলেন, এক অসহায় তফসিলি জনজাতি মহিলার উপর সংঘটিত এই জঘন্য অপরাধ এবং তাঁর অধিকার রক্ষায় ব্যবস্থার ব্যর্থতায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি সংশ্লিষ্ট সমস্ত কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।










