লোকালয়ে বাঘের উপদ্রব কমাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন সৌর চালিত ডিভাইস স্থাপন জঙ্গলে

IMG-20260211-WA0078

সুন্দরবন: সুন্দরবনে মানুষ ও বাঘের মধ্যে সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা বন বিভাগের রায়দিঘি রেঞ্জের কুলতলীর ৯ নম্বর আজমলমারী কম্পার্টমেন্ট এ অ্যানিমাল ইনট্রুশন ডিটেকশন অ্যান্ড রিপেলেন্ট সিস্টেম বসানো হয়েছে। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো মানুষ ও বন্যপ্রাণীর পারস্পরিক সংঘাতজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা। বিগত বছর গুলিতে কুলতলি ব্লকের একাধিক গ্রাম জঙ্গল সংলগ্ন এবং গ্রামগুলি বাঘের আবাসভূমির সঙ্গে সীমানা ভাগ করে নিয়েছে এবং সারা বছর জুড়েই, বিশেষ করে শীতকালে, বাঘের গ্রামে প্রবেশের ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। দেউলবাড়ি গৌড়ের চক ভাষা মধ্য পূর্ব গুড়গুড়িয়া সুন্দরবনে মানব-বাঘ সংঘাত মোকাবিলা ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা বন বিভাগ যৌথভাবে রায়দিঘি রেঞ্জের অধীন হেরোভাঙ্গা–০৯ বন কম্পার্টমেন্টের নির্বাচিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ক্যামেরা ট্র্যাপের পাশাপাশি অ্যানিমাল ইনট্রুশন ডিটেকশন অ্যান্ড রিপেলেন্ট সিস্টেম (অ্যানিমাল ইনট্রুশন ডিটেকশন অ্যান্ড রিপেলেন্ট সিস্টেম) স্থাপিত হয়েছে, অ্যানিমাল ইনট্রুশন ডিটেকশন অ্যান্ড রিপেলেন্ট সিস্টেম একটি অ-ঘাতক, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা, যা মানববসতিপূর্ণ এলাকায় বন্যপ্রাণীর অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো আগাম সতর্কতা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং প্রাণীটি আশপাশের গ্রামে প্রবেশ করার আগেই অনুপ্রবেশ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন বিভাগকে সহায়তা করা।প্রতিটি ডিভাইস তার কেন্দ্রবিন্দু থেকে ১৮০° কোণে ন্যূনতম ২৫ থেকে ৩০ মিটার এলাকা কাভার করতে সক্ষম এবং প্রতিটি ইউনিট অ-নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে চালিত হয়। এই পাইলট প্রকল্পটি বর্তমানে সীমিত পরিসরে ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাস্তবায়িত হচ্ছে, যাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, পরিচালনাগত নির্ভরযোগ্যতা, শনাক্তকরণের নির্ভুলতা এবং বাঘের অনুপ্রবেশ কমাতে যন্ত্রগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা যায়, ডবলু টি আই–এর সুন্দরবন টাইগার প্রজেক্টের ফিল্ড অফিসার সম্রাট পাল বলেন, এখন পর্যন্ত আম ০৪টি অ্যানিমাল ইনট্রুশন ডিটেকশন অ্যান্ড রিপেলেন্ট সিস্টেম স্থাপন করেছে তারা। এই যন্ত্র গুলো উন্নত মোশন-সেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে যার ফলে প্রাণীর চলাচলের উপস্থিতি শনাক্ত করতে সক্ষম। এই উদ্যোগের মাধ্যমে এসব এলাকায় প্রাণীর চলাচল পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্রবেশপথগুলো চিহ্নিত করা যাবে, যার ফলে আরও কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও প্রশমন কৌশল গ্রহণ করা সহজ হবে, ডবলুটিআই এর বন্যপ্রাণ সংঘাত প্রশমন বিভাগের প্রধান ড. অভিষেক ঘোষাল এর কথায় গত বছর উত্তরপ্রদেশের পিলিভিত ও কাতারনিয়াঘাটে এটি প্রাথমিকভাবে শুরু করেছিল এবং সেটি এখনও চলমান। এবার প্রথমবারের মতো সুন্দরবনে এটি চালু করা হলো। এতে আমরা বুঝতে পারব, বাঘ প্রবেশ রোধে অ্যানিমাল ইনট্রুশন ডিটেকশন অ্যান্ড রিপেলেন্ট সিস্টেম কতটা কার্যকর এবং খাল বা বনাঞ্চল থেকে গ্রামে বাঘ ঢোকার ঘটনা কমানো যায় কি না।দীর্ঘমেয়াদে মানব-বাঘ সংঘাত প্রশমন নীতি ও বাজেট পরিকল্পনায় এই ধরনের ডিভাইস অন্তর্ভুক্ত করা হলে, এলাকায় মানব-বাঘ সংঘাত মোকাবিলায় টেকসই, ব্যয়সাশ্রয়ী এবং অ-ঘাতক পদ্ধতির প্রয়োগ সম্ভব হবে। গতবারের ৩৮ বার বাঘের লোকালয় প্রবেশের সংখ্যা ক্রমশই কমছে এমনই অভিমত পরিবেশ প্রেমিক উদ্যালক পাবলো প্রতাপ প্রামাণিক শেখ শামসুদ্দীন প্রবীর মিশ্র বিপ্লব তিয়াড়ীরা।

About Author

Advertisement