নয়াদিল্লি: প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম. এম. নরভণের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা সংক্রান্ত ইস্যুতে চলমান অচলাবস্থার মধ্যে মঙ্গলবার লোকসভায় সরকার ও বিরোধীদের সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে। আসনের কাছে কাগজ ছোড়ার অভিযোগে আটজন বিরোধী সাংসদকে চলতি বাজেট অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য বরখাস্ত করা হয়।
বরখাস্ত সাংসদদের মধ্যে কংগ্রেসের সাতজন—অমরিন্দর সিং রাজা ওয়াডিং, গুরদীপ সিং ওজলা, হিবি ইডেন, ডিন কুরিয়াকোস, প্রশান্ত পদোলে, কিরণ কুমার রেড্ডি ও মণিকম টাগোর—এবং সিপিআই(এম)-এর সাংসদ এস. ভেঙ্কটেশন রয়েছেন।
সদনে চলমান অচলাবস্থার সময় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী টানা দ্বিতীয় দিনের মতো প্রাক্তন সেনাপ্রধান নরভণের এক অপ্রকাশিত স্মৃতিকথার ওপর ভিত্তি করে লেখা নিবন্ধের উল্লেখ করে চীনের সঙ্গে সম্পর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু তুলতে চেষ্টা করেন। তবে আসন তাঁকে এ বিষয়ে বক্তব্য রাখার অনুমতি দেয়নি। তা সত্ত্বেও রাহুল গান্ধী নিবন্ধটি সত্যায়িত বলে দাবি করে তা সদনের টেবিলে পেশ করেন।
হট্টগোলের জেরে লোকসভার কার্যক্রম তিনবার মুলতবি হওয়ার পর বুধবার সকাল ১১টা পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলাকালীন বিকেল ৩টায় সদন পুনরায় শুরু হলে, সভাপতিত্বকারী দিলীপ সাইকিয়া আসনের অবমাননার অভিযোগে আট সদস্যের নাম ঘোষণা করেন।
রিজিজু পেশ করলেন বরখাস্তের প্রস্তাব:
সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরণ রিজিজু প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেন, সংশ্লিষ্ট সাংসদরা সদনের অবমাননা করেছেন, মহাসচিব ও লোকসভার আধিকারিকদের টেবিলের কাছে গিয়ে কাগজ ছুড়েছেন এবং আসনের মর্যাদায় আঘাত করেছেন। তিনি বিধি ৩৭৪(২) অনুযায়ী আট সদস্যকেই অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য বরখাস্ত করার প্রস্তাব দেন, যা সদন ধ্বনিমতে অনুমোদন করে। এরপর দিনের জন্য পুরো কার্যক্রম মুলতবি করা হয়।
এর আগে, রাহুল গান্ধীর চীন প্রসঙ্গ তোলা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে হট্টগোলের কারণে সদনের কার্যক্রম তিনবার স্থগিত করতে হয়। রাহুল গান্ধীকে কথা বলার অনুমতি না দেওয়ার প্রতিবাদে বিরোধী সদস্যরা স্লোগান দেন এবং আসনের কাছে কাগজ ছোড়েন। সে সময় সভাপতিত্বে ছিলেন কৃষ্ণ প্রসাদ তেন্নেটি।
বরখাস্তের পর বিরোধী সাংসদরা সংসদ প্রাঙ্গণে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এই কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধী, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা সহ অন্যান্য বিরোধী নেতারাও অংশ নেন।
অন্যান্য বিষয়েও হট্টগোল:
সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা বারাণসীর মণিকর্ণিকা ঘাটে মহারানি অহিল্যাবাই হোলকর-এর মূর্তি ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে “অহিল্যাবাইয়ের অপমান, সহ্য করবে না ভারত” স্লোগান দেন।
এর আগে, প্রশ্নোত্তর পর্বে হট্টগোলের সময় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়ে বলেন, প্রশ্নোত্তর পর্ব সাংসদদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে সরকারের জবাবদিহি নির্ধারিত হয়—এতে ব্যাঘাত অনুচিত।









