নয়াদিল্লি: বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারতের জ্বালানি সরবরাহের প্রসঙ্গে সরকার বারবার স্পষ্ট করেছে যে ১৪০ কোটি ভারতীয়ের জ্বালানি নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তা নিশ্চিত করতে আমরা জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনি এবং বাজার পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। ভারত সবসময় এই ভাবনাতেই পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”
রুশ বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে ভারতের নতুন করে ভাবার কোনও প্রয়োজন নেই। তিনি আরও জানান, এই বাণিজ্য উভয় দেশের জন্যই লাভজনক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক।
প্রাক্তন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ নরেন্দ্র তানেজার মতে, ভারত–রাশিয়া সম্পর্ক কেবল তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারত রাশিয়া থেকে খুবই অল্প পরিমাণ তেল কিনত। ভারত ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে ভারত ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬৮.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ৫২.৭৩ বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল ভারত রাশিয়া থেকে আমদানি করেছে। ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়, তবে এই বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ডলারেরও নিচে নেমে আসবে।
ভারতের কাছে রাশিয়ার গুরুত্ব কেবল তেলেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও পারমাণবিক শক্তির মতো ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা গভীর। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত যুক্তরাষ্ট্র, ইজ়রায়েল ও ফ্রান্স থেকে অস্ত্র ক্রয় বাড়ালেও, রাশিয়া এখনও ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী।










