রাহুল গান্ধীর অভিযোগ: চিন সংকটের সময় প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেননি

rahul-gandhis-fresh-jibe-at-pm-modi-253636923-16x9_0

নয়াদিল্লি: লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বুধবার সংসদ ভবন চত্বরে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এম. এম. নরবণের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথার একটি কপি দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। রাহুল গান্ধীর দাবি, যখন চিনা ট্যাঙ্ক ভারতের সীমান্তের দিকে এগিয়ে আসছিল, তখন প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি।
সংসদ চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রাহুল গান্ধী বইটি দেখিয়ে বলেন, সরকার বলছে এমন কোনও বইয়ের অস্তিত্ব নেই, অথচ এই বইটি রয়েছে এবং দেশের প্রতিটি তরুণের এটি দেখা উচিত। তিনি জানান, এটি জেনারেল নরবণের লেখা বই হলেও, এর অংশবিশেষ প্রকাশ্যে উদ্ধৃত করার অনুমতি তাঁকে দেওয়া হয়নি।
রাহুল গান্ধীর দাবি, ওই স্মৃতিকথায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি কথিত মন্তব্যের উল্লেখ রয়েছে “যা ঠিক মনে করো, তাই করো।” তাঁর বক্তব্য, সীমান্তে পরিস্থিতি যখন অত্যন্ত গুরুতর ছিল, তখনই এই মন্তব্য করা হয়।
কংগ্রেস নেতার মতে, তৎকালীন সেনাপ্রধান নরবণে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে ফোন করে জানিয়েছিলেন যে চিনা ট্যাঙ্ক সীমান্তে পৌঁছে গেছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে দিকনির্দেশনা চেয়েছিলেন। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, প্রথমে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর তরফে কোনও স্পষ্ট নির্দেশ পাওয়া যায়নি, পরে বলা হয় তিনি “উপরে” জিজ্ঞাসা করবেন। শেষ পর্যন্ত নাকি এই বার্তা দেওয়া হয় যে, যতক্ষণ না চিনা সেনা আরও ভেতরে ঢোকে, ততক্ষণ অনুমতি ছাড়া গুলি চালানো যাবে না।
রাহুল গান্ধী বলেন, ভারতীয় সেনা চিনা ট্যাঙ্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাইছিল, কারণ তারা ইতিমধ্যেই ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল। কিন্তু এমন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর তরফে স্পষ্ট নেতৃত্ব পাওয়া যায়নি। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী সেনার উপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে বলেন, ‘যা উপযুক্ত মনে হয়, তাই করতে।
কংগ্রেস নেতা আরও দাবি করেন, নরবণে তাঁর বইয়ে লিখেছেন যে সেই সময় তিনি গভীর একাকিত্ব অনুভব করেছিলেন এবং পুরো ব্যবস্থাই তাঁকে একা ছেড়ে দিয়েছিল। রাহুল গান্ধী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি লোকসভায় আসেন, তবে তিনি নিজে গিয়ে এই বইটি তাঁকে উপহার দেবেন।
উল্লেখযোগ্য যে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার সময় রাহুল গান্ধী এই স্মৃতিকথার কিছু অংশ উদ্ধৃত করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু লোকসভার স্পিকারের অনুমতি না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। এই বিষয়টি নিয়েই গত সোমবার থেকে লোকসভায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

About Author

Advertisement