রাজ্য সড়কের দুই ধারে অনশন আন্দোলনে নামল তৃণমূল

1309722-tmc-flags

দিনহাটা: এসআইআর ইস্যুতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যখন কলকাতায় অবস্থান আন্দোলনে নেমেছেন ঠিক সেই সময় সেই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে দিনহাটা মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে রাজ্য সড়কের দুই ধারে অনশন আন্দোলনে নামল তৃণমূল।
দলের পক্ষ থেকে গণ অনশন কর্মসূচি শুরু হয়। মন্ত্রী উদয়ন গুহর উপস্থিতিতে এদিন এই গণ- অনশন কর্মসূচি শুরু হলে উপস্থিত ছিলেন পুরসভার চেয়ারম্যান অপর্না দে নন্দী, ভাইস চেয়ারম্যান সাবির সাহা চৌধুরী, তৃণমূলের দিনহাটা দুই ব্লক সভাপতি দীপক কুমার ভট্টাচার্য, শহর ব্লক সভাপতি বিশু ধর, দিনহাটা এক বি ব্লক সভাপতি অনন্ত বর্মণ, মহিলা তৃণমূলের এক বি ব্লক সভাপতি ডালিয়া চক্রবর্তী, সংগঠনের শহর ব্লক সভানেত্রী রূপা দেব, যুব তৃণমূলের শহর ব্লক সভানেত্রী পার্থ সাহা, এসসি ওবিসি সেলের ব্লক সভাপতি হীরালাল দাস, মনোজ দে, তৃণমূলের দিনহাটা ২ ব্লক সহ-সভাপতি আব্দুল সাত্তার, দীপক সেন, রুমা খাসনবিশ, পুলক বোস সহ অনেকেই।
এ দিন এই গণ অনশন কর্মসূচির জন্য রাস্তার দুই ধারে তিনটি মঞ্চ বাধা হয়। তিনটি মঞ্চের একটিতে মন্ত্রী উদয়ন গুহ ছাড়াও মহিলা তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের পাশাপাশি অন্য দুইটিতে দলের বিভিন্ন ব্লক এবং অঞ্চল নেতৃত্বদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ এই অনশন কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন। মন্ত্রীর নেতৃত্বে দলের বিভিন্ন ব্লক নেতৃত্ব থেকে শুরু করে বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থকরাও এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। এদিন মন্ত্রীর নেতৃত্বে দিনহাটায় তৃণমূলের গণ অনশন কর্মসূচি শুরু হলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তা যথেষ্ট লক্ষ্য করা যায়।
শহরের পাঁচ মাথার মোড় থেকে দিনহাটা কোচবিহার রুটের বিভিন্ন গাড়িকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় অন্য রাস্তা দিয়ে। এদিকে তৃণমূলের এই কর্মসূচিকে কটাক্ষ করেন বিজেপির কোচবিহার জেলা সহ-সভাপতি বিরাজ বসু। তিনি বলেন,”তৃণমূল নেতারা বুঝে গিয়েছে এবারের নির্বাচনে আট তারা ক্ষমতা আসতে পারবেনা। তাই বিভিন্ন জায়গায় অনশনের নাম করে কার্যত নাটক করা হচ্ছে। দিনহাটায় যিনি মন্ত্রী রয়েছেন তিনি বুঝে গিয়েছেন তৃণমূল আর ক্ষমতায় থাকছে না। তাই অনশনের রাজনীতি করে প্রচারে থাকার চেষ্টা করছে।
তৃণমূলের দিনহাটা দুই ব্লক সভাপতি দীপক কুমার ভট্টাচার্য বলেন, যেভাবে বৈধ ভোটারদেরকে চক্রান্ত করে তাদের নাম বাতিলের চেষ্টা চলছে তার বিরুদ্ধে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইতিমধ্যে আন্দোলন শুরু করেছেন। আমরাও দিনহাটায় মন্ত্রী উদয়ন গুহর নেতৃত্বে গণ অনশন আন্দোলন শুরু করেছি। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। আগামী নির্বাচনে বিজেপিকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার অপেক্ষায় শুধু প্রহর গুনছে দিনহাটা সহ গোটা রাজ্যের।
আগামী দিনে এই দলকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।এদিকে এদিন গণ অনশন মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে কটাক্ষ করে মন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন, “ভ্যানিশ কুমারের তেল আর কাজে আসবে না। পিছনের দরজা দিয়ে বিজেপিকে জিতিয়ে ক্ষমতায় বসানোর চক্রান্ত, অন্যায়ের প্রতিবাদে, যথার্থ নাগরিক তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার প্রতিবাদে আমাদের নেত্রী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় অবস্থান আন্দোলন শুরু করেছেন।
সেই অবস্থানের সমর্থনে এবং সেই চক্রান্তের প্রতিবাদে আমরা দিনহাটাতে গণ অনশন আন্দোলনে সামিল হয়েছি।” তিনি বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন এবং অভিযোগ করেন, এসআইআর ইস্যুতে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। আন্ডার জুডিকেশন দেখিয়ে সেই তালিকায় মুসলিমের সংখ্যা যেমন বেশি রয়েছে তেমনি রাজবংশী রয়েছে। অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষও রয়েছে। একেবারে পরিকল্পিতভাবে জায়গা বেছে নেওয়া হয়েছে।
দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রে ৩৬ হাজার ভোটারের নাম আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন আছে। তার মধ্যে চৌধুরীহাট, নয়ারহাট ও শুকারুরকুঠি এই তিনটি অঞ্চলে রয়েছে ১৬ হাজার ভোটারের নাম বিচারাধীনের তালিকায় ফেলে রাখা হয়েছে। এই অধিকার নির্বাচন কমিশনের নেই। ভারতের সংবিধানের পরিষ্কার বলা আছে প্রত্যেকটা নাগরিকের ভোটাধিকার রয়েছে। তারা সরকার তৈরি করতে সক্রিয় ভূমিকা নেবে। কেন এদের ভোটের অধিকার থাকবে না। কে এই ক্ষমতা দিয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। বিজেপির অঙ্গুলি হেলনে চলছে নির্বাচন কমিশন।

About Author

Advertisement