রাজ্যে ভোটপ্রচারে মোদী, বঙ্গ সফরে নীতীনও

nitin-nabin-pm-modi-bjp

কলকাতা: রাজ্যে ভোট ঘোষণার পর থেকেই সব শিবিরে তৎপরতা বেড়েছে। শুরু হয়ে গিয়েছে প্রচার। ‘মিশন বাংলা’-য় ভারতীয় জনতা পার্টিতেও তৎপরতা তুঙ্গে। শীঘ্রই রাজ্যে ভোট প্রচার শুরু করবে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। রাজ্যে ভোট প্রচারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। খুব সম্ভবত চলতি সপ্তাহেই বাংলায় আসতে পারেন তিনি। যদিও সেই কর্মসূচির দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে একাধিক জনসভা করবেন বলে জানা গিয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি কয়েকটি পথসভাও করবেন।
ভোটের আবহেই রাজ্যে আসছেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। মঙ্গলবার তিনি রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল বাংলায় দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এই অবস্থায় রাজ্যে দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে আসছেন নীতীন নবীন।
গোটা রাজ্যজুড়ে প্রচারে ঝাঁপাবেন নরেন্দ্র মোদীও। রাজ্যে একাধিক সভার পাশাপাশি কলকাতায় পথসভা করবেন তিনি। জানা গিয়েছে, কলকাতায় একটি পথসভা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। সেই পথসভা ভবানীপুর ছুঁয়ে যেতে পারে। ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। সে দফায় কলকাতায় ভোট হচ্ছে না। ২৯ এপ্রিল কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনে ভোট হবে। তাই ২৪ থেকে ২৭ এপ্রিলের মধ্যেই এই অঞ্চলে ভোটের প্রচার তুঙ্গে উঠবে। ওই সময়েই প্রধানমন্ত্রী মোদী কলকাতায় পথসভা করবেন। সেটিই হবে পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনে তাঁর শেষ পথসভা।
কোন পথ দিয়ে বা কলকাতার কোন কোন অঞ্চল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পথসভা এগোবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রীর সেই কর্মসূচি যে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে অবশ্যই ছুঁয়ে যাবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, কলকাতায় মোদীর শেষ পথসভা ভবানীপুর থেকেই শুরু হতে পারে। অথবা অন্যত্র শুরু হয়ে ভবানীপুরে শেষ হতে পারে। সেই সব পরিকল্পনা তথা পথসভার সম্পূর্ণ যাত্রাপথ পরে নির্ধারণ করা হবে।
এবার বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের দিকে সবার নজর রয়েছে। কারণ এই কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁর বিরুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারীকে প্রার্থী করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। ফলে ভবানীপুর কেন্দ্রের দিকে রাজনৈতিক মহলের বিশেষ নজর রয়েছে।
ভবানীপুরে প্রচারে নামার ক্ষেত্রে শুভেন্দু একেবারেই দেরি করেননি। দিল্লিতে প্রার্থিতালিকা সংক্রান্ত বৈঠক সেরে যে রাতে তিনি কলকাতা ফেরেন, তার পরের দিন থেকেই ভবানীপুরের অলিগলিতে ঘুরে প্রচার শুরু করে দেন। শুভেন্দু ভবানীপুরে ঢুকতেই তৃণমূল কংগ্রেসও পাল্টা পথে নামে। শুভেন্দুকে লক্ষ্য করে তৃণমূলের সমবেত স্লোগান এবং তার জেরে ভারতীয় জনতা পার্টির তরফ থেকে পাল্টা স্লোগানের দৃশ্য ইতিমধ্যেই একাধিক বার দেখা গিয়েছে। ফলে আগামী দিনে এখানকার প্রচার যে অন্য মাত্রা নেবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এই ভবানীপুরেই শুভেন্দুর হয়ে প্রচার করতে আসছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। দলীয় সূত্রের খবর, ভোটমুখী বাংলায় একাধিক জনসভা করবেন নরেন্দ্র মোদী। যদিও তাঁর সফরের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ৩০ মার্চের পরে তা স্পষ্ট হবে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটের মাঝে কলকাতায় পথসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৪ থেকে ২৭ এপ্রিলের মধ্যেই হবে সেই পথসভা। কারণ প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৩ এপ্রিল এবং তার পরে দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচারের শেষ দিন হবে ২৭ এপ্রিল।
শুধু কলকাতাই নয়, প্রধানমন্ত্রীর পথসভা হতে পারে শিলিগুড়ি, দুর্গাপুর বা আসানসোলের মতো শহরেও। তবে যেখানেই পথসভা হোক না কেন, সেখানকার নিরাপত্তা ও রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেই এই বিষয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেবে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিভাগ। উল্লেখযোগ্য যে ভোট ঘোষণার আগেই বাংলায় ছয়টি সাধারণ জনসভা ও একটি ব্রিগেড সমাবেশ করেছেন নরেন্দ্র মোদী। এবার ভোট প্রচারে আবার রাজ্যে আসছেন তিনি।

About Author

Advertisement