নয়াদিল্লি: রপ্তানি প্রসার মিশন ভারতের রপ্তানি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার একটি প্রধান উদ্যোগ। এতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ, প্রথমবারের রপ্তানিকারক এবং শ্রমপ্রধান ক্ষেত্রকে।মিশনের অধীনে আরও সাতটি নতুন সহায়তা ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। এর ফলে, মিশন প্রায় পূর্ণ মাত্রায় কার্যকর হয়েছে।ইপিএম দুটি সমন্বিত উপ-পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে – নির্যাত প্রোৎসাহন এবং নির্যাত দিশা। এতে আর্থিক ও আর্থিক বহির্ভূত, উভয় ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়।বাণিজ্য ঋণ, রপ্তানি নিয়মানুবর্তিতা, সরবরাহ ব্যবস্থা, বিদেশে গুদাম এবং বাজারে প্রবেশের জন্য সহায়তা দেওয়া হয়।রপ্তানি প্রসার মিশনের মাধ্যমে ভারতের রপ্তানি ব্যবস্থা মিশনভিত্তিক পদ্ধতিতে শক্তিশালী হচ্ছে। লক্ষ্য- আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ বাড়ানো এবং ভারতীয় রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।আগে থেকে শুরু হওয়া সহায়তা ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে সরকার আরও সাতটি নতুন ব্যবস্থা শুরু করেছে। এর ফলে মোট ১০টি ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। এতে রপ্তানিকারকদের জন্য আর্থিক সহায়তা, নিয়মানুবর্তিতা, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিদেশের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বেড়েছে। রপ্তানি প্রসার মিশন কি-২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে অনুমোদিত এই মিশন একাধিক রপ্তানি সহায়তা উদ্যোগকে একক ডিজিটাল কাঠামোর মধ্যে এনেছে। ২০২৫-২৬ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫,০৬০ কোটি টাকা। লক্ষ্য ভারতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উপস্থিতি বৃদ্ধি করা।মিশন দুটি উপ-পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে নির্যাত প্রোৎসাহন – আর্থিক সহায়তা ও বাণিজ্য ঋণ নির্যাত দিশা – অ-আর্থিক সহায়তা ও বাজারে প্রবেশএই পদ্ধতিতে নীতি সহায়তা, অর্থায়ন, বাজার প্রস্তুতি এবং বাজার সংযোগ একই কাঠামোর মধ্যে এসেছে। ফলে, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগের রপ্তানি বৃদ্ধি সহজ হয়েছে।রপ্তানির প্রতিটি ধাপে সহায়তা-মিশনের মাধ্যমে সমন্বিত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে- বাজার ও পণ্যের বিশ্লেষণ রপ্তানির আগে ও পরে ঋণ সুবিধাবাণিজ্য নিয়মানুবর্তিতা পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থা বিদেশে গুদাম ও ক্রেতা সংযোগনির্যাত প্রোৎসাহন – আর্থিক সহায়তা এই উপ-পরিকল্পনা রপ্তানিকারকদের আর্থিক সমস্যার সমাধান করে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগের জন্য সুলভ ঋণ ও বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করে।
১) বিকল্প বাণিজ্য ঋণ (রপ্তানি ফ্যাক্টরিং) এই উদ্যোগের কার্যকর মূলধন বাড়াতে সহায়তা করে। নিবন্ধিত আর্থিক সংস্থার মাধ্যমে এই পরিষেবা দেওয়া হয়। ফ্যাক্টরিং খরচে ২.৭৫ শতাংশ সুদ ভর্তুকি পাওয়া যায়।
২) ই-কমার্স রপ্তানিকারকদের ঋণ সহায়তা বৈধ আইইসি ও উদ্যোগ নিবন্ধন থাকা ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগগুলি এই সুবিধা পায়। রপ্তানি-আমদানি ব্যাঙ্কের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়। ৩) নতুন বাজারে রপ্তানি সহায়তা বেশি ঝুঁকির বা নতুন বাজারে প্রবেশে সহায়তা দেয়। লেনদেন মূল্যের ১০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ঝুঁকি ভাগ করা হয়।
৪) রপ্তানি ঋণে সুদ ভর্তুকি রপ্তানির আগে ও পরে নেওয়া ঋণের সুদ কমাতে সহায়তা দেয়।
৫) জামানতবিহীন রপ্তানি ঋণ ক্ষুদ্র ও ছোট শিল্পের জন্য ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ গ্যারান্টি পাওয়া যায়। মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ। সর্বোচ্চ ঋণসীমা ১০ কোটি টাকা। নির্যাত দিশা – আর্থিক বহির্ভূত সহায়তা এই উপ-পরিকল্পনা রপ্তানির আর্থিক বহির্ভূত বাধা দূর করে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপস্থিতি বাড়ায়। এর মধ্যে রয়েছে- আন্তর্জাতিক মান পূরণে সহায়তা বাণিজ্য মেলা ও ক্রেতা-বিক্রেতা বৈঠক বিদেশে গুদামের সুবিধা সরবরাহ ব্যবস্থা সহায়তা আবেদন পদ্ধতি-নির্যাত প্রোৎসাহনের ক্ষেত্রে রপ্তানিকারকরা আগে অনলাইনে আবেদন করেন। একটি ইউনিক নম্বর দেওয়া হয়। সেই নম্বর ব্যবহার করে ব্যাংক বা আর্থিক সংস্থা ঋণ প্রদান করে। নির্যাত দিশার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পরিষেবা নেওয়ার আগে আবেদন এবং রপ্তানি সম্পন্ন হওয়ার পরে ভর্তুকি দাবি করতে হয়।রপ্তানি প্রসার মিশন একটি সমন্বিত রপ্তানি সহায়তা কাঠামো। এতে আর্থিক সহায়তা, বাজারে প্রবেশের সুবিধা এবং পরিকাঠামোগত সহায়তা একত্রে দেওয়া হচ্ছে।রপ্তানির খরচ কমানো, আন্তর্জাতিক মান পূরণে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে উপস্থিতি বাড়ানোই এই মিশনের লক্ষ্য। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, রপ্তানি পরিষদ এবং বিদেশে অবস্থিত ভারতীয় মিশন যৌথভাবে এটি বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুস্থায়ী রপ্তানি বৃদ্ধি সম্ভব হবে।









