কলকাতা: পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মণিপাল হাসপাতালস গ্রুপের অঙ্গসংস্থা মণিপাল হাসপাতাল, মুকুন্দপুর পরপর দুটি জটিল মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এক কিশোরী ও এক প্রবীণ মহিলার চলাফেরার ক্ষমতা এবং জীবনযাত্রার মান আবার উন্নত হয়েছে। এই চিকিৎসা করেছেন মণিপাল হাসপাতাল, মুকুন্দপুরের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও ক্লিনিক্যাল লিড—স্পাইন সার্জারি ডা. অনিন্দ্য বসু।
এই দুটি ক্ষেত্রে প্রথম রোগী ছিলেন ৬৭ বছর বয়সি সীমা দে (নাম পরিবর্তিত), যিনি দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মেরুদণ্ডের ব্যথায় ভুগছিলেন। দ্বিতীয় রোগী ছিলেন ১৪ বছর বয়সি আরশিয়া আহমেদ (নাম পরিবর্তিত), যার মেরুদণ্ডে যক্ষ্মা (টিবি) সংক্রমণ হয়েছিল। এই রোগের কারণে তার মারাত্মক স্নায়বিক সমস্যা দেখা দেয়, যার ফলে তার চলাফেরার ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়ে এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম করাও কঠিন হয়ে যায়। উন্নত অস্ত্রোপচার প্রযুক্তি, সময়মতো চিকিৎসা এবং বহুবিভাগীয় চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে দু’জনই উপকৃত হয়েছেন।
প্রথম রোগী সীমা দে কলকাতার বাসিন্দা ও গৃহবধূ। তিনি কয়েক মাস ধরে তীব্র কোমর ব্যথা এবং পায়ে ছড়িয়ে পড়া যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। পরীক্ষায় জানা যায়, স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ার কারণে এই ব্যথা হচ্ছিল, যা তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছিল। তিনি একটানা পাঁচ মিনিটের বেশি হাঁটতেও পারছিলেন না।
এরপর তার মিনিমালি ইনভেসিভ কী-হোল টিউবুলার লাম্বার ফিউশন অস্ত্রোপচার করা হয়, যা কম টিস্যু ক্ষতির মাধ্যমে মেরুদণ্ডকে স্থিতিশীল করে। হাসপাতালের আধুনিক পরিকাঠামো ও সার্জিক্যাল দক্ষতার কারণে অস্ত্রোপচার সফল হয়। অস্ত্রোপচারের পরদিনই তাকে হাঁটানো হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি ব্যথামুক্ত অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।
দ্বিতীয় রোগী আরশিয়া আহমেদ কলকাতার টপসিয়ার বাসিন্দা এবং নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার দুই পায়েই ভীষণ দুর্বলতা ছিল এবং তিনি দাঁড়াতে বা হাঁটতে সম্পূর্ণ অক্ষম ছিলেন। মেডিক্যাল ইমেজিংয়ে ধরা পড়ে যে তার মেরুদণ্ডে টিবি সংক্রমণ হয়েছে, যার ফলে হাড় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জমে থাকা পুঁজ স্পাইনাল কর্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। সময়মতো অস্ত্রোপচার না হলে স্থায়ী পক্ষাঘাতের ঝুঁকি ছিল।
তৎক্ষণাৎ অস্ত্রোপচার করে পুঁজ বের করা হয়, মেরুদণ্ডকে স্থিতিশীল করা হয় এবং স্পাইনাল কর্ডের ওপর থেকে চাপ সরানো হয়। অস্ত্রোপচারের পর আরশিয়ার অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়। ধীরে ধীরে তার পায়ে শক্তি ফিরে আসে এবং চিকিৎসকদের সহায়তায় সে আবার হাঁটতে শুরু করে। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ, শিশু চিকিৎসক, পুনর্বাসন বিশেষজ্ঞ এবং ফিজিওথেরাপিস্টদের একটি দল তার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নিয়মিত ফিজিওথেরাপির পর সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে হাঁটতে শুরু করে এবং বাড়ি ফিরতে সক্ষম হয়। বর্তমানে চিকিৎসকরা তাকে স্কুলে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পুরোপুরি শক্তি ও ভারসাম্য ফিরে এলে সে আবার স্কুলে গিয়ে স্বাভাবিক পড়াশোনা ও শারীরিক কার্যকলাপে অংশ নিতে পারবে।
সীমা দে বলেন, “অস্ত্রোপচারের আগে কয়েক পা হাঁটাও খুব যন্ত্রণাদায়ক ছিল। আমার জীবন যেন থমকে গিয়েছিল। অস্ত্রোপচারের কয়েক দিনের মধ্যেই আমি ব্যথামুক্ত অবস্থায় হাঁটতে পেরেছি। এজন্য আমি মণিপাল হাসপাতাল, মুকুন্দপুরের চিকিৎসক, নার্স এবং পুরো মেডিক্যাল টিমের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
আরশিয়ার বাবা, যিনি ব্যবসায়ী, বলেন, “মেয়ের অবস্থা দেখে আমরা খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। চিকিৎসকরা আমাদের সবকিছু পরিষ্কারভাবে বুঝিয়েছিলেন এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাকে আবার হাঁটতে দেখা আমাদের জন্য আশীর্বাদের মতো। আমরা পুরো মেডিক্যাল টিমের কাছে গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।

ডা. অনিন্দ্য বসু বলেন, “এই দুই রোগীর সমস্যা ভিন্ন ছিল, কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই সময়মতো রোগ নির্ণয়, আধুনিক অস্ত্রোপচার প্রযুক্তি এবং বহুবিভাগীয় চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একজন রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে হাঁটতে শুরু করেছেন, অন্য ক্ষেত্রে সময়মতো অস্ত্রোপচার স্পাইনাল কর্ডের স্থায়ী ক্ষতি রোধ করেছে। এত অল্প সময়ে রোগীদের আবার হাঁটতে দেখা আমাদের জন্য অত্যন্ত সন্তোষজনক।
এই দুটি সফল অস্ত্রোপচার প্রমাণ করে যে মণিপাল হাসপাতাল, মুকুন্দপুর উন্নত প্রযুক্তি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং সমন্বিত চিকিৎসার মাধ্যমে রোগী-কেন্দ্রিক মেরুদণ্ডের চিকিৎসা দিতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।









