কলম্বো: শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ডুবোজাহাজের টরপেডো হামলার পর জাহাজটি সমুদ্রে ডুবে যায়। এতে থাকা বহু ইরানি নাবিকের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। কয়েক দিন আগেই বিশাখাপত্তনমে ঘুরে গিয়েছিলেন ইরানি নাবিকরা।
ডুবে যাওয়া যুদ্ধজাহাজটিতে প্রায় ১৮০ জন নাবিক ও কর্মী ছিলেন। দুর্ঘটনার আগে তারা ভারতের বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত বহুজাতিক নৌ-অভ্যাস “মিলান–২০২৬”-এ অংশ নিতে এসেছিলেন।
ভারতে কাটানো স্মরণীয় সময়:
ইরানি নাবিকরা ১৫ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশাখাপত্তনমে অবস্থান করেন। এই সময় তারা রুশিকোন্ডা সমুদ্রসৈকত এবং কৈলাসগিরি পাহাড় উদ্যানসহ শহরের বিভিন্ন পর্যটনস্থল ঘুরে দেখেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তারা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং “অতুল্য ভারত” কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত বিভিন্ন পর্যটন কার্যক্রমেও অংশ নেন।
কিছু নাবিক তাজমহল দর্শনের জন্য আগ্রা শহরেও যান। সেখানে তারা ভারতের সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক ঐতিহ্য কাছ থেকে উপভোগ করেন।
সমাজমাধ্যমে হাসিমুখের ছবি:
সমাজমাধ্যমে নাবিকদের হাসিমুখে তোলা ছবি, সমুদ্রসৈকতে ঘোরার দৃশ্য এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তোলা ছবি ব্যাপকভাবে ভাগ করে নেওয়া হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, তারা ছিলেন অত্যন্ত বন্ধুসুলভ তরুণ নাবিক। শহরের মানুষের সঙ্গে আলাপচারিতায় মেতে ওঠার পাশাপাশি তারা বিশাখাপত্তনমের অতিথিপরায়ণতারও প্রশংসা করেছিলেন। তারা যুদ্ধ স্মারক, ডুবোজাহাজ সংগ্রহশালা এবং শিল্পগ্রামসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন।
অভ্যাস শেষে ফেরার পথে দুর্ঘটনা:
“মিলান–২০২৬” নৌ-অভ্যাস শেষ হওয়ার পর ইরানের যুদ্ধজাহাজটি নিজ দেশে ফিরছিল। সেই সময় শ্রীলঙ্কার সমুদ্রসীমার কাছাকাছি টরপেডো হামলার পর জাহাজটি ডুবে যাওয়ার খবর প্রকাশ পায়।
ঘটনা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত সরকারি তথ্য সামনে আসেনি। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহু নাবিক সমুদ্রে নিখোঁজ হয়েছেন অথবা তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।










