নয়াদিল্লি: আজকাল ডেস্ক জব, নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন এবং অনলাইন ডেলিভারির কারণে আমাদের চলাফেরা অনেকটাই কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর। তবে চিন্তার কিছু নেই, কারণ মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটার মাধ্যমে এই নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই কমানো যায়। তবে তার জন্য হাঁটার সঠিক পদ্ধতি জানা জরুরি।
হাঁটা সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর ব্যায়াম, যা হৃদয়, মস্তিষ্ক, হাড়সহ পুরো শরীরের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটলে (ব্রিস্ক ওয়াক) এই উপকারগুলি পাওয়া সম্ভব। কিন্তু ব্যস্ততা ও আধুনিক সুবিধার যুগে নিয়মিত হাঁটাও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে শরীরের মৌলিক সুস্থতা নষ্ট হয় এবং গুরুতর অসুখের ঝুঁকি বাড়ে। এই প্রতিবেদনে জানব ৩০ মিনিট হাঁটার ইতিবাচক প্রভাব এবং সঠিক পদ্ধতি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ;
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা উচিত। সম্ভব হলে আরও বেশি সময় হাঁটা আরও ভালো ফল দেয়। যদি একটানা ৩০ মিনিট হাঁটা সম্ভব না হয়, তবে দিনে তিনবার ১০ মিনিট করে হাঁটতে পারেন। সপ্তাহে যত বেশি দিন সম্ভব এটি বজায় রাখা উচিত।
হাঁটার সঠিক পদ্ধতি:
হাঁটার উপকার পেতে হলে সঠিক ভঙ্গি ও গতি গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত হাঁটা বা ব্রিস্ক ওয়াক করা উচিত, যেখানে গতি স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি হয়। এটি মাঝারি মাত্রার ব্যায়ামের অন্তর্ভুক্ত।
নিজের গতি সঠিক কি না তা বোঝার সহজ উপায় হলো—আপনি হাঁটার সময় স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারবেন, কিন্তু গান গাইতে গেলে শ্বাসকষ্ট হবে।
৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটার উপকারিতা:
সুস্থ হৃদয়: গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হাঁটা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এটি রক্তনালীর অভ্যন্তরীণ স্তরের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
সুস্থ ফুসফুস: দ্রুত হাঁটলে শরীরে বেশি অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। ফলে ফুসফুস ও ডায়াফ্রাম সক্রিয়ভাবে কাজ করে এবং তাদের পেশি শক্তিশালী হয়।
রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়: প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এতে মহিলাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ২০ শতাংশ কমে, আর গতি বাড়ালে তা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: নিয়মিত দ্রুত হাঁটলে প্রায় ২০০ ক্যালরি পর্যন্ত পোড়ানো যায়, যা ওজন কমানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক।
হাড় ও জয়েন্ট মজবুত রাখে: হাঁটার সময় জয়েন্টে প্রয়োজনীয় তরল চলাচল করে, যা কার্টিলেজকে পুষ্টি ও অক্সিজেন জোগায়। ফলে হাড়ের ক্ষয় কমে এবং জয়েন্ট সুস্থ থাকে।
কীভাবে অভ্যাস গড়বেন?
বাড়ির কাছাকাছি বাজার বা দোকানে হেঁটে যান।
মোবাইলে কথা বলার সময় হাঁটুন।
অফিসে যাওয়া-আসায় সম্ভব হলে গণপরিবহন ব্যবহার করুন।
লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।
শুরুতে নিজের সুবিধামতো গতি রাখুন।
দ্রুত হাঁটা শুধু শরীর নয়, মনের উপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে, মুড ভালো রাখে এবং ঘুমের মান বাড়ায়।
অতএব, মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটাই আপনার সার্বিক সুস্থতার জন্য বড় পরিবর্তন আনতে পারে।










