মাওবাদীদের ঘাঁটিতে পৌঁছে অমিত শাহ নকশালদের কী বার্তা দিলেন?

sanmarg_2026-02-09_rcead2jj_HAtiYDQaAAAYusX

জগদলপুর: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ছত্তিশগড়ের বাস্তার জেলার সদর দপ্তর জগদলপুরে অনুষ্ঠিত ‘বাস্তার পণ্ডুম ২০২৬’ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমাপনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। সোমবার তিনি বলেন, মাওবাদ কখনও কোনও সমাজের উপকার করেনি; যেখানে যেখানে এর উপস্থিতি ছিল, সেখানেই ধ্বংস ডেকে এনেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি কলম্বিয়া, পেরু ও কম্বোডিয়ার উদাহরণ তুলে ধরেন। জগদলপুরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি পুনরায় বলেন, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে নকশালবাদের সমস্যা সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা হবে।
তিনি নকশালদের আত্মসমর্পণ করে মূল স্রোতে ফিরে আসার আহ্বান জানান এবং সম্মানজনক পুনর্বাসনের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “ছত্তিশগড় সরকারের মাওবাদী পুনর্বাসন নীতি সবচেয়ে আকর্ষণীয়।”
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অমিত শাহ বলেন, যারা এখনও নকশাল কার্যকলাপে যুক্ত রয়েছে, তাদের মধ্যে তরুণ আদিবাসী মেয়েরাও আছে। তিনি বলেন, “তাদের পুনর্বাসনের আওতায় আনা উচিত, কারণ তাদের সামনে পুরো জীবন পড়ে আছে।”
আত্মসমর্পণকারী নকশালদের কোনও ক্ষতি করা হবে না—এমন আশ্বাস দিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা এখনও গুলি চালাবে, আইইডি পুঁতে দেবে এবং স্কুল ও হাসপাতাল জ্বালিয়ে দেবে, তাদের রেহাই দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “সশস্ত্র হিংসার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। কেউ যদি অস্ত্র তোলে, তবে জবাবও অস্ত্র দিয়েই দেওয়া হবে।” তিনি আবারও বলেন, মাওবাদ কোনও সমাজের উপকার করেনি; যেখানে এর উপস্থিতি ছিল, সেখানে ধ্বংস নেমে এসেছে—কলম্বিয়া, পেরু ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলিও এর উদাহরণ।
অবশিষ্ট সশস্ত্র নকশালদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কারও সঙ্গে লড়াই করতে চাই না। আমাদের লড়াই আমাদের আদিবাসী ভাই-বোনদের রক্ষার জন্য। আইইডি বসানো হলে নিরপরাধ শিশুদের প্রাণ যেতে পারে বা তারা আজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। এই নিষ্ঠুরতা কোথা থেকে আসে?” তিনি বলেন, মাওবাদীরা দশকের পর দশক স্কুল বন্ধ করে রেখেছিল, যার ফলে বহু প্রজন্ম শিক্ষাবঞ্চিত হয়েছে এবং ব্যাপক নিরক্ষরতা ছড়িয়েছে।
অমিত শাহ বলেন, “তবে এখন বাস্তার দ্রুত উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে। স্কুল আবার খুলছে, রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে, মোবাইল টাওয়ার বসানো হচ্ছে, ডাকঘর খোলা হচ্ছে এবং গ্রামগুলিতে বিদ্যুৎ ও পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের সংকল্প, আগামী পাঁচ বছরে বাস্তারকে দেশের সবচেয়ে উন্নত আদিবাসী-অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা।” তিনি জানান, বাস্তার অঞ্চলের সাতটি জেলা নিয়ে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সরকার একটি রোডম্যাপ প্রস্তুত করেছে। এর লক্ষ্য হল ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সব গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া, প্রতিটি গ্রামে মোবাইল সংযোগ নিশ্চিত করা এবং প্রতি পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে একটি করে ডাকঘর বা ব্যাংক শাখা স্থাপন করা।

About Author

Advertisement