কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে জানালেন যে তিনি আবারও স্তব্ধ হয়েছেন।
তিনি বলেন, বারবার একই ঘটনা ঘটছে এবং বাংলার মনীষীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অবহেলা ও অসংবেদনশীলতা আজ আবার স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজ যুগাবতার শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথি। এই পবিত্র মুহূর্তে তাঁকে প্রণাম জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নামের আগে একটি অজানা ও অনুপযুক্ত উপাধি ‘স্বামী’ যুক্ত করেছেন বলে তিনি কটাক্ষ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সকলেই জানেন শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ আপামর মানুষের কাছে ‘ঠাকুর’ রূপেই পূজিত। তাঁর দেহাবসানের পর তাঁর সন্ন্যাসী শিষ্যরা রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন প্রতিষ্ঠা করেন এবং ভারতীয় ঐতিহ্য অনুসারে সেই সন্ন্যাসীদের নামের আগে ‘স্বামী’ উপাধি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু স্বয়ং আচার্যদেব সর্বদা ‘ঠাকুর’ নামেই পরিচিত। রামকৃষ্ণ সংঘের পবিত্র ত্রয়ী—ঠাকুর–মা–স্বামীজি—তেও তিনি ‘ঠাকুর’; মা সারদা ‘মা’ এবং বিবেকানন্দ ‘স্বামীজি’ হিসেবে পরিচিত।
শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ঠাকুরকে ‘স্বামী’ বলা বাংলার সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে চরম অজ্ঞতা ও অবহেলা ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আধুনিক ভারতের রূপকার বাংলার নবজাগরণের এই মহাপুরুষদের অপমান করা বন্ধ করা হোক। তাঁদের জন্য প্রতিদিন নতুন বিশেষণ সৃষ্টি করার কোনো প্রয়োজন নেই। অনুগ্রহ করে বাংলার আবেগকে এভাবে বারবার আঘাত করা বন্ধ করুন।









