মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব নেপালের অর্থনীতিতে

nepalese-rupee

কাঠমান্ডু: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রভাব নেপালের অর্থনীতিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই অঞ্চলে ১৭ লক্ষের বেশি নেপালি নাগরিক কর্মরত রয়েছেন। ফলে অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব প্রবাসী আয়, বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার, আমদানি ব্যয় এবং পর্যটন খাতে পড়তে পারে।
সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক নেপালি নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনার পর ওই অঞ্চলে কর্মরত নেপালি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
প্রবাসী আয়ের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
নেপাল রাষ্ট্র ব্যাংক-এর ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশে কর্মরত ৫৮.৯ শতাংশ নেপালি শ্রমিক সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার-সহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে কাজ করছেন। নেপালের অর্থনীতির একটি বড় অংশ প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল, যা মোট দেশজ উৎপাদনের ২৫ শতাংশেরও বেশি।
অর্থনীতিবিদ ড. কেশব আচার্যের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রবাসী আয়ে পতন ঘটতে পারে। তাঁর বক্তব্য, উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে প্রাপ্ত প্রবাসী আয়ে যদি মাত্র ৫ শতাংশও হ্রাস পায়, তবে নেপালের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হতে পারে। গত অর্থবছরে নেপাল ১৭ খরব ২৩ আরব ২৭ কোটি রুপি প্রবাসী আয় পেয়েছিল।
শ্রম বিশেষজ্ঞ ড. গণেশ গুরুঙও মনে করেন, যুদ্ধের কারণে শিল্পকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হলে শ্রমিকদের আয় কমবে এবং প্রবাসী আয়ে প্রভাব পড়বে।
শ্রম অনুমোদন সাময়িক স্থগিত
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিবেচনায় নেপাল সরকার সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান, ইরাক, ইয়েমেন, জর্ডান, লেবানন, তুরস্ক এবং ইসরায়েল-সহ ১২টি দেশের জন্য শ্রম অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
তেলের দামে বৃদ্ধির ঝুঁকি
উপসাগরীয় দেশগুলো বিশ্বে প্রধান তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়তে পারে। এর ফলে নেপালের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ পড়বে।
নেপাল রাষ্ট্র ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার ৩২ খরব ৪২ আরব ৪৫ কোটি রুপি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসী আয় কমে গেলে এবং বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
পর্যটন ও আকাশপথে প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্য অন্যান্য দেশ থেকে নেপালে আগত পর্যটক এবং বিদেশগামী নেপালি নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকেন্দ্র। কাতার এয়ারওয়েজ, টার্কিশ এয়ারলাইন্স, ফ্লাই দুবাই, ওমান এয়ার, এয়ার অ্যারাবিয়া এবং এমিরেটস এই রুটে পরিষেবা পরিচালনা করে।
যুদ্ধের কারণে উড়ান কমে গেলে বা বিমানবন্দর বন্ধ হলে নেপালে পৌঁছানো ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে এবং পর্যটকের সংখ্যা কমতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রবাসী আয়, বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার, আমদানি ব্যয় ও পর্যটন—সব ক্ষেত্রেই চাপ বাড়বে, যা নেপালের অর্থনীতিকে আরও জটিল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

About Author

Advertisement