ইম্ফল: ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য মণিপুরে বুধবার রাষ্ট্রপতি শাসন তুলে দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় জনতান্ত্রিক জোট (রাজগ) নেতা ইউমনাম খেমচন্দ সিং ‘লোক ভবন’-এ মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী পদ ও গোপনীয়তার শপথ গ্রহণ করেছেন। এর আগে, ৬২ বছর বয়সী খেমচন্দ সিংকে মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে বিজেপি বিধায়ক দলের বৈঠকে নেতা নির্বাচিত করা হয়।
হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত মণিপুর দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রপতি শাসনের মধ্যে থাকার পর এবার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্ব পেল। মার্শাল আর্টে দক্ষ মাইতেই সম্প্রদায়ের নেতা খেমচন্দ সিং রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি পেশ করেছিলেন।
এর সঙ্গে বিজেপি বিধায়ক নেমচা কিপগেন মণিপুরের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। কিপগেন কুকি সম্প্রদায়ের। এছাড়াও নাগা পিপলস ফ্রন্টের বিধায়ক এল দিখোও উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। বিজেপির গোবিন্দাস কংসৌজম এবং এনপিপির কে কে লোকেন সিং মন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ করেছেন। নেমচা কিপগেন নয়াদিল্লার মণিপুর ভবন থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে শপথ গ্রহণ করেছেন।
শপথ গ্রহণের পর মুখ্যমন্ত্রী খেমচন্দ সিং বলেন, “মণিপুর উন্নত ভারত ২০৪৭-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাজ্যে ৩৬টি সম্প্রদায় রয়েছে এবং আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করব।”
বিজেপি বিধায়ক দলের বৈঠক মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে খেমচন্দ সিংয়ের নাম নিয়ে একমত হওয়া হয়। কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি নিতিন নাভিন এবং পর্যবেক্ষক তরুণ চুঘ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন. বিরেন সিং তার পছন্দের ব্যক্তিকে মুখ্যমন্ত্রী বানাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এবার তার প্রস্তাব গুরুত্ব পায়নি। বিরেন মাইতেই সম্প্রদায়ের গোবিন্দ দাসকে মুখ্যমন্ত্রী বানানোর চেষ্টা করেছিলেন। দল সূত্রের খবর অনুযায়ী, কুকি এবং মাইতেই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাতের কারণে বিরেন একাধিকবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশ মেনে চলেননি। তাকে রাজ্যসভায় পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

নতুন মুখ্যন্ত্রীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আগামী মার্চ ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে মাইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। দল চাইছে নির্বাচনের আগে মণিপুরে স্থিতিশীলতা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা হোক।
উল্লেখ্য, মণিপুরে ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে রাষ্ট্রপতি শাসন কার্যকর ছিল। মে ২০২৩-এ মাইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সৃষ্ট জাতিগত হিংসার কারণে তখনকার মুখ্যমন্ত্রী এন. বিরেন সিংকে পদত্যাগ করতে হয়। মণিপুর বিধানসভার ১২তম অধিবেশনের সপ্তম সেশন ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।










