ভারত–বাংলাদেশ উত্তেজনা কমানোর রাশিয়ার পরামর্শ

02-5

ঢাকা: বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা দ্রুত কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন। ঢাকায় রাশিয়ান দূতাবাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি বাংলাদেশ, ভারত এবং সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার স্বার্থে।
রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করেন যে রাশিয়া দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না, তবে তাঁর মতে উত্তেজনা বৃদ্ধি রোধ করতে হলে বিচক্ষণ ও সংযত পথ অবলম্বন করা উচিত। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভারতের ভূমিকা ছিল নির্ণায়ক এবং তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নও সেই আন্দোলনকে সমর্থন করেছিল।
রাষ্ট্রদূত খোজিন বলেন, “বাংলাদেশ যত দ্রুত ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা কমাবে, ততই ভালো হবে।”
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন বেড়েছে এবং উভয় দেশই সাময়িকভাবে ভিসা পরিষেবা স্থগিত রেখেছে। বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের আগে ভারত-বিরোধী মনোভাব প্রকাশ্যে আসছে।
আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমা দেশগুলির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ওপর একতরফা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, যেখানে রাশিয়ার অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভারতের পক্ষে বলে প্রতীয়মান। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাজন কুমারের মতে, ঐতিহাসিকভাবে ভারত–রাশিয়া সম্পর্ক দৃঢ়, এবং বর্তমান রাশিয়ান বক্তব্যেও সেই ধারাবাহিকতার প্রতিফলন দেখা যায়।
ভারতের প্রাক্তন বিদেশ সচিব কনওয়াল সিব্বলও কিছু পশ্চিমা দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভারত-বিরোধী বক্তব্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং বাংলাদেশ সরকার তাঁর প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়েছে, যা ভারত গ্রহণ করেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ। দেশের প্রায় ৯৪ শতাংশ সীমান্ত ভারতের সঙ্গে যুক্ত, যার ফলে নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার এই বক্তব্যকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ককে ভারসাম্যের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা জায।

About Author

Advertisement