কলকাতা: ২০২৬ সালে ব্রেথওয়েট অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস অত্যন্ত আনন্দ, মর্যাদা ও দেশপ্রেমের পরিবেশে পালিত হয়। এই উপলক্ষে কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রী নবীন কুমার সদর দপ্তর প্রাঙ্গণ এবং ভিক্টোরিয়া ওয়ার্কসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং উপস্থিত আধিকারিক ও কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।
নিজের বক্তব্যে শ্রী নবীন কুমার বলেন, শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, দ্রুত অগ্রসরমান অর্থনীতি এবং নিজস্ব মূল্যবোধের জন্য পরিচিত বিশ্বের অগ্রগণ্য দেশগুলির অন্যতম হওয়া ভারতের জন্য আমরা সকলেই গর্বিত। তিনি গত কয়েক বছরে কোম্পানির উৎকৃষ্ট পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও ব্রেথওয়েট অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করে আরও ভালো সাফল্য অর্জন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। কর্মীদের সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কোম্পানিকে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়ার প্রতি তিনি তাঁর পূর্ণ অঙ্গীকারের কথা জানান।
এই উপলক্ষে কোম্পানির পরিচালক (অর্থ) শ্রী আর. বিরাবাহু তাঁর ভাষণে স্বাধীনতা সংগ্রামী ও রাষ্ট্রনির্মাতাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং বলেন, এই ধরনের জাতীয় উৎসব আমাদের পূর্বপুরুষদের অবদান স্মরণ করার সুযোগ করে দেয়। তিনি বলেন, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হিসেবে আমরা সবাই জনসেবার মাধ্যমে জাতির অগ্রগতিতে অবদান রাখছি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, চলতি আর্থিক বছরটি সাম্প্রতিক বছরগুলির মধ্যে কোম্পানির জন্য সর্বোত্তম প্রমাণিত হচ্ছে এবং এ বছর ১,৫৮৯ কোটি টাকার টার্নওভার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ভালো ফলাফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কোম্পানির পরিচালক (উৎপাদন) শ্রী সঞ্জীব রাস্তোগি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ব্রেথওয়েট অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড একটি সুপ্রতিষ্ঠিত পাবলিক সেক্টর ইউনিট হিসেবে দেশের রেলওয়ে পরিকাঠামো, প্রতিরক্ষা ও ভারী প্রকৌশল ক্ষেত্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। সীমিত সম্পদ এবং চ্যালেঞ্জিং বাজার পরিস্থিতির মধ্যেও আধিকারিক, প্রকৌশলী ও কর্মচারীদের নিষ্ঠা, সততা এবং কঠোর পরিশ্রমের তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে “উন্নত ভারত”-এর লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রেথওয়েটের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। দলগত কাজ, উদ্ভাবন এবং ইতিবাচক চিন্তাভাবনার মাধ্যমেই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। তিনি তরুণ প্রতিভা ও দক্ষতা উন্নয়নের প্রসারেও আহ্বান জানান।
তিনি কর্মচারীদের কাছে আহ্বান জানান, ব্রেথওয়েট অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডকে একটি আধুনিক, দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল পাবলিক সেক্টর ইউনিট হিসেবে গড়ে তুলতে সকলে যেন সম্মিলিতভাবে অবদান রাখেন।
ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শ্রী ফারুক আজম বলেন, ব্রেথওয়েট অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের অগ্রগতিতে কর্মচারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একতা, শৃঙ্খলা ও আনুগত্য এই অগ্রগতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। ইউনিয়ন সবসময় ব্যবস্থাপনার সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করেছে এবং সহযোগিতার মাধ্যমে কোম্পানির উন্নয়ন, কর্মচারী কল্যাণ ও জাতি গঠনে অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কার্যনির্বাহী পরিচালক (মানবসম্পদ, প্রশাসন ও নিরাপত্তা) শ্রী পি.কে. মিশ্র, কার্যনির্বাহী পরিচালক (কর্পোরেট বিষয়ক ও প্রকল্প উন্নয়ন) শ্রী দেবাশীষ দে, মহাপ্রবন্ধক (অর্থ ও হিসাব) শ্রী প্রিয়দর্শী চট্টোপাধ্যায়সহ ঊর্ধ্বতন আধিকারিক ও কর্মচারীরা। এছাড়াও কোম্পানির এঙ্গাস ওয়ার্কস ইউনিটের মহাপ্রবন্ধক (ইন-চার্জ) শ্রী প্রমোদ কুমার সিনহা এবং ভাদলাপুডি ইউনিটের প্রধান প্রকল্প ব্যবস্থাপক শ্রী সরোজ কুমার সেনাপতি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।









