ব্রিগেডে মোদীর জনসভা: হাতে কাটআউট ও পরিবর্তনের ডাক

IMG-20260314-WA0047

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে শনিবার বিজেপি দল ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভা আয়োজন করে। সভা শুরু হওয়ার আগেই দলের কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মীরা শুক্রবার রাত থেকেই কলকাতায় পৌঁছতে শুরু করেন। ব্রিগেড ময়দানের প্রধান মঞ্চের পাশে, ইডেন গার্ডেন্স ও ফোর্ট উইলিয়ামের পাশে স্থাপিত মাঠগুলোতে সমর্থকদের বাসে রান্নার সুবিধা দেখা যায়।
মিশ্রিত উচ্ছ্বাস ও নারা-জোর:
উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গ থেকে মেট্রো ও ট্রেনযোগে আসা কর্মীরা মিছিল নিয়ে ব্রিগেডের দিকে এগিয়ে যায়। হাতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাটআউট ও পোস্টার ধরে সমর্থকরা উচ্চস্বরে নারা দেয়, “ভারত মাতা কি জয়” এবং “নরেন্দ্র মোদী কি জয়।”
শনিবার দুপুরে, নন্দীগ্রাম দিবসে তীব্র রোদ সত্ত্বেও কর্মীরা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানায়। হুগলির এক বৃদ্ধা মহিলা ক্যামেরার সামনে বলেন, “মোদীজি, আপনি অটলবিহারী বাজপেয়ীর মতো দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজ করছেন। আমাদের বাড়ি তৃণমূল ভেঙেছিল, তারকেশ্বর পৌরসভার চেয়ারম্যান উত্তম কুণ্ডু এটি করেছিল।”
মাছ চাষের সমর্থক এবং পদ্ম ফুলে বার্তা:
মিছিলের সময় কিছু যুবক হাতে মাছের পোস্টার উঁচিয়ে ধরে। তাদের বক্তব্য, তারা মাছ চাষে যুক্ত, কিন্তু কেন্দ্রীয় প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার তাদের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছে। সমগ্র মিছিলের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাটআউট এবং হাতে পদ্ম ফুল নিয়ে সমর্থকরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছিলেন।
রাজ্য সরকার ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ:
মঞ্চ থেকে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ তৃণমূলের প্রদর্শন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “তৃণমূলের সভায় শুধু পুলিশ থাকে, সাধারণ মানুষের কথা কেউ শুনে না।” কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সমগ্র কলকাতায় ‘গো-ব্যাক’ পোস্টার লাগিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে আগামী নির্বাচনে ডাবল ইঞ্জিন সরকার গঠন হবে। জনগণ নরেন্দ্র মোদীর পক্ষেই থাকবে।”
বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয় নিশ্চিত করা। এটি কোনো ধর্মশালার আয়োজন নয়, জনগণের অধিকার ভোট দিতে।”
কর্মীরা নিজেদের জন্য প্রস্তুতি নিলেন:
ব্রিগেডে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত কর্মীরা নিজেরাই খাবার রান্না করেন। কেউ চিকেন ভাত খেয়েছেন, কেউ আবার ডিম ভাত। গ্যাস সিলিন্ডারের সমস্যা থাকা সত্ত্বেও তারা নিজেদের প্রস্তুতিতে কোনো কমতি রাখেননি।

About Author

Advertisement