বাঘ ও কুমিরের আক্রমণে আহত ও নিহত মৎস্যজীবী পরিবারগুলি অসহায়

Screenshot_20260213_143001_Chrome

সুন্দরবন: অসহায় সুন্দরবনের মৎস্যজীবীরা। তাদের জীবন ও জীবিকা চিরকালই এক চরম অনিশ্চয়তার ওপর দাঁড়িয়ে। একদিকে নোনা জলের কুমির আর অন্যদিকে ডাঙ্গার বাঘ, এই দুইয়ের মাঝে লড়াই করে যারা পেট চালায়, তাদের বড় অংশই প্রাপ্য সরকারি সহযোগিতা বা ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হয় বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে।’নিষিদ্ধ এলাকা’ ও পারমিট সমস্যা মৎস্যজীবীদেরসবচেয়ে বড় বাধা। কোর এরিয়া বা সংরক্ষিত বনাঞ্চল। অনেক মৎস্যজীবী বেশি মাছ বা কাঁকড়ার আশায় এই নিষিদ্ধ এলাকায় ঢুকে পড়েন মৎস্যজীবীরা।যদি ও এই এলাকায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তবে বন দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী তারা কোনো ক্ষতিপূরণ পায় না। বর্তমানে কোর্টের রায়ের কোর ও বাফার এলাকা নির্দিষ্ট কোন বাধা ধরা নেই। এমনকি যাদের কাছে বৈধ বিএলসি নেই, তাদের পরিবারও সরকারি সাহয্য থেকে কিছু কিছু এক্সিডেন্ট এ বঞ্চিত হয় এই সমস্ত মৎস্যজীবীরা। বিএলসি নিয়ে জটিলতা,সুন্দরবনে মাছ ধরার জন্য বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট বা বিএলএস থাকা বাধ্যতামূলক। বর্তমানে এই লাইসেন্সের সংখ্যা সীমিত এবং নতুন লাইসেন্স দেওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে বনদপ্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ।ফলে অনেকে চড়া ভাড়ায় অন্যের লাইসেন্স নিয়ে মাছ ধরতে যান। এই ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার শিকার হলে আইনি জটিলতায় ক্ষতিপূরণ আটকে ও যায়। বীমা ও সরকারি প্যাকেজ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনায় মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার (যেমন- ‘মৎস্যজীবী বন্ধু’ প্রকল্প) ব্যবস্থা থাকলেও, তা পেতে অনেক নথিপত্র এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অনেক সময় সচেতনতার অভাবে বা দালালের খপ্পরে পড়ে গরিব মৎস্যজীবী পরিবারগুলো সেই সুবিধা পায় না।বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা দুই শতাধিক।প্রতি বছর বহু মানুষ প্রাণ হারান বা পঙ্গু হয়ে যান, যার সঠিক পরিসংখ্যান অনেক সময় নথিবদ্ধ হয় না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যকে হারিয়ে অনেক মৎস্যজীবী পরিবার দেনার দায়ে ডুবে যায়। বাঘের আক্রমণ থেকে বাঁচতে অনেকেই গ্রাম ছেড়ে ভিন রাজ্যে শ্রমিকের কাজে চলে যাচ্ছেন। নদী সংলগ্ন এলাকায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ার ফলে। সুন্দরবনের মানুষের লড়াই শুধু বাঘের সঙ্গেই নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক জটিলতার বিরুদ্ধেও। বন দপ্তরের মতে, অবৈধভাবে জঙ্গলে প্রবেশ বন্ধ না করলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, অন্যদিকে মৎস্যজীবীদের দাবি—পেটের দায়ে ঝুঁকি নেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। কুলতলি গোসাবা পাথর প্রতিমার সাম্প্রতিক ঘটনা তার জলজ্যান্ত প্রমাণ।

About Author

Advertisement