বাংলাদেশে হিন্দুদের হত্যার নিন্দা জানাল শক্তিশালী দেশ ব্রিটেন

CREATOR: gd-jpeg v1.0 (using IJG JPEG v62), quality = 70?

লন্ডন: ব্রিটেন সরকার বাংলাদেশে “সব ধরনের সহিংসতার” নিন্দা জানিয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশে হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হত্যার বিষয়টি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অব কমন্স’-এ উত্থাপিত হওয়ার পর ব্রিটিশ সরকার এই অবস্থান জানায়।
বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে বক্তব্য রেখে লেবার পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হস্তক্ষেপের দাবি জানান এবং ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে “স্বাধীন ও নিরপেক্ষ” করার আহ্বান জানান। ব্রিটিশ হিন্দুদের সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপ (এপিপিজি)-এর চেয়ারম্যান ব্ল্যাকম্যান বলেন, হিন্দুদের হত্যা ও তাদের মন্দির পোড়ানোর “ভয়াবহ পরিস্থিতি” দেখে তিনি স্তম্ভিত।
রাস্তায় প্রকাশ্যে হিন্দু হত্যা নিয়ে উদ্বেগ:
তিনি বলেন, “রাস্তায় প্রকাশ্যে হিন্দুদের হত্যা করা হচ্ছে, তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, মন্দিরে আগুন লাগানো হচ্ছে এবং অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাও একই ধরনের নির্যাতনের শিকার।” তিনি আরও বলেন, আগামী মাসে তথাকথিত “স্বাধীন ও নিরপেক্ষ” নির্বাচন হতে চলেছে, অথচ বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে সেই নির্বাচনে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে—যদিও জনমত জরিপ অনুযায়ী তাদের প্রায় ৩০ শতাংশ সমর্থন রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসলামী চরমপন্থীরা এমন এক গণভোটের ডাক দিয়েছে যা বাংলাদেশের সংবিধানকে স্থায়ীভাবে বদলে দিতে পারে।
নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি:
ব্ল্যাকম্যান হাউস অব কমন্সের নেতা অ্যালান ক্যাম্পবেলের কাছে অনুরোধ জানান, যেন তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ভেট কুপারের সামনে বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং বাংলাদেশে “অন্তর্ভুক্তিমূলক” নির্বাচন ও সংখ্যালঘু সুরক্ষায় ব্রিটেন কী পদক্ষেপ নিচ্ছে তা সংসদকে জানান।
ক্যাম্পবেল বলেন, “আমরা মানবাধিকার প্রচার ও সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এই বিষয়টি নিয়মিত তুলে ধরব। আমরা ধর্মীয় বা জাতিগত—সব ধরনের সহিংসতার নিন্দা করি এবং অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের সংখ্যালঘু সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি, বিশেষ করে গ্রেপ্তারি পদক্ষেপগুলোকে স্বাগত জানাই।
ব্রিটেনের হস্তক্ষেপের আহ্বান:
ক্যাম্পবেল ব্ল্যাকম্যানকে আশ্বস্ত করেন যে তিনি তার বক্তব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে আনবেন এবং ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) যথাসময়ে একটি বিবৃতি বিবেচনা করবে।
এর এক সপ্তাহ আগে কনজারভেটিভ নেতা প্রীতি প্যাটেল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ভেট কুপারকে চিঠি লিখে বাংলাদেশে “অত্যন্ত উদ্বেগজনক” পরিস্থিতি তুলে ধরে ব্রিটেনের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

About Author

Advertisement