দুটি সংবাদপত্রের অফিসে আগুন, ভারতীয় উপদূতাবাসে হামলা।
ঢাকা: ‘জুলাই বিদ্রোহ’-এর অন্যতম নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ উসমান হাদি ছয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুরে মারা যান। গত সপ্তাহে ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা তাঁর মাথায় গুলি চালায়।
হাদির মৃত্যুর পর রাজধানী ঢাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত জনতা দেশের প্রথম সারির দুটি সংবাদপত্রের অফিসে অগ্নিসংযোগ করে। প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার-এর অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর ও আগুন লাগানো হয়। ঘটনার সময় সাংবাদিক ও কর্মীরা ভেতরে আটকে পড়েন।
এছাড়া চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় উপদূতাবাসেও হামলা চালানো হয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের দূতাবাস লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়তে দেখা যায়।
হাদি কে ছিলেন?
২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়, যা ‘জুলাই বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত। হাদি ছিলেন সেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ এবং আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী।
ইউনুস-সমর্থক পত্রিকায় হামলা কেন?
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনুসের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে মনে করা হয়। তবে এই দুই সংবাদপত্রের ওপর হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
‘৩২ ধানমন্ডি’-তেও হামলা-
বিক্ষোভকারীদের একটি দল বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক বাসভবন ‘৩২ ধানমন্ডি’র দিকে অগ্রসর হয়—এমন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে।
এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা:
জাতির উদ্দেশে ভাষণে মুহাম্মদ ইউনুস হাদির মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।









