বছরের পর বছর অপেক্ষার পর হুইলচেয়ারে ভর করে বাড়ির ভেতরে চলাফেরা করতে দেখা গেল মাইকেল শুমাখারকে

IMG-20260127-WA0061

বার্লিন: ফর্মুলা–১-এর সর্বকালের সেরা চালকদের মধ্যে অন্যতম মাইকেল শুমাখারের জীবনে ১২ বছর পর এমন এক মোড় এসেছে, যা কেউ কল্পনাও করেননি। সাতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শুমাখার এখন আর সম্পূর্ণভাবে শয্যাশায়ী নন এবং রিপোর্ট অনুযায়ী তিনি এখন হুইলচেয়ারের সাহায্যে নিজের বাড়ির ভেতরে চলাফেরা করতে পারছেন। দীর্ঘ সময় শুধু মেডিক্যাল রুমেই সীমাবদ্ধ থাকার পর তাঁর সুস্থতার এই অগ্রগতি চিকিৎসক, পরিবার এবং বিশ্বজুড়ে তাঁর অসংখ্য অনুরাগীর কাছে বড় স্বস্তির খবর।
২০১৩ সালের স্কিইং দুর্ঘটনার পর থেকেই শুমাখারের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছিল। তাঁর চিকিৎসা ও মানসিক শান্তিতে প্রভাব পড়তে পারে, এই আশঙ্কায় শুমাখার পরিবার মিডিয়া থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিল। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, শুমাখার এখন সোজা হয়ে বসতে পারেন এবং সীমিতভাবে চোখের প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে আশপাশের বিষয়গুলো বুঝতে সক্ষম হচ্ছেন। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য ডেইলি মেল তাঁর জ্ঞানীয় সচেতনতায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে। যদিও তাঁর যোগাযোগ এখনো অত্যন্ত সীমিত, তবু তিনি আশপাশের পরিস্থিতি আংশিকভাবে অনুধাবন করতে পারছেন।
শুমাখারের এই সুস্থ হয়ে ওঠার যাত্রায় তাঁর স্ত্রী কোরিনা শুমাখারের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে দৃঢ় ভিত্তি। তিনি সুইৎজারল্যান্ড ও স্পেনে অবস্থিত বাড়িগুলিতে বিশ্বমানের চিকিৎসা পরিকাঠামো গড়ে তুলেছেন, যেখানে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ নার্স, ফিজিওথেরাপিস্ট ও নিউরোলজি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থাকেন। বছরের পর বছর ধরে কোরিনা মিডিয়া থেকে দূরে থেকে শুমাখারের তথ্য ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কঠোরভাবে রক্ষা করে এসেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর ফরাসি আল্পসের মেরিবেলে স্কিইং করার সময় শুমাখারের মাথা বরফে ঢাকা একটি পাথরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। হেলমেট তাঁর প্রাণ বাঁচালেও দুর্ঘটনার ভয়াবহতার কারণে তাঁকে দু’বার জরুরি ব্রেন সার্জারির মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং তিনি প্রায় ২৫০ দিন কোমায় ছিলেন। সেই দিন থেকে আজ পর্যন্ত শুমাখারের জীবন সংগ্রাম, সাহস এবং পরিবারের অটল দৃঢ়তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। তাঁর পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুধু চিকিৎসাগত নয়, মানসিক ও আবেগগতভাবেও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

About Author

Advertisement