প্রার্থী দিলে উপসভাপতির পদ হারাতে পারে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি, কী বলছে সাংবিধানিক বিধান

IMG-20260311-WA0048

নেত্র বিক্রম বিমলি

কাঠমান্ডু: নির্বাচন কমিশন নেপাল প্রতিনিধি সভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সভা সদস্য নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তবে সংসদে বিভিন্ন দলের অবস্থান প্রায় স্পষ্ট হয়ে গেছে।
রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি সরাসরি নির্বাচনে ১২৫টি আসন জিতেছে, আর সমানুপাতিক পদ্ধতিতে প্রায় ৫১ লাখ ৪০ হাজার ভোট পেয়েছে। এই সংখ্যা প্রতিনিধি সভায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমান বলে মনে করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার গঠনকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির ভূমিকা নির্ণায়ক হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, সভার সভাপতির পদও ওই দলটির হাতে যেতে পারে। তবে বর্তমান সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী সভাপতি ও উপসভাপতি একই দল এবং একই লিঙ্গের হতে পারেন না।
যদি অন্য কোনো দলের পক্ষ থেকে সভাপতি বা উপসভাপতির পদের জন্য প্রার্থী দেওয়া হয়, তাহলে এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টিকে উপসভাপতির পদ ছাড়তে হতে পারে। তবে তারা নিজেদের পছন্দের অন্য কোনো দলের প্রার্থীকে সমর্থন করতে পারে।


সংবিধান কী বলছে:
নেপালের সংবিধান ২০১৫-এর ৯১ অনুচ্ছেদে সভাপতি ও উপসভাপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৯১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিনিধি সভার প্রথম বৈঠক শুরু হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সভাপতি ও উপসভাপতির নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক।
অর্থাৎ সংসদের প্রথম বৈঠকের ১৫ দিনের মধ্যেই এই দুইটি পদে নির্বাচন সম্পন্ন করা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।
৯১(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সভাপতি ও উপসভাপতির মধ্যে অন্তত একজন নারী হতে হবে এবং দুজন ভিন্ন ভিন্ন দল থেকে হতে হবে।
তবে যদি প্রতিনিধি সভায় একাধিক দলের প্রতিনিধিত্ব না থাকে বা অন্য দল প্রার্থী না দেয়, তাহলে একই দলের সদস্য সভাপতি ও উপসভাপতি উভয় পদে থাকতে পারেন।
এই কারণেই যদি অন্য দল উপসভাপতির পদের জন্য প্রার্থী দেয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির পক্ষে এই পদ নিজেদের কাছে রাখা সম্ভব হবে না।

About Author

Advertisement