দিনহাটা: হাত থাকতেও লিখতে পারেনা। পা থাকতেও চলাফেরাও করতে পারে না। দুই হাত পা থেকেও যেন না থাকার মত অবস্থা। তারপরেও মনের জোরকে সঙ্গী করে প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে মাধ্যমিক পরীক্ষার পর এবছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে দিনহাটার শোনীদেবী জৈন হাই স্কুলের ছাত্র রশিদ মিয়া। প্রীতম দেবনাথ নামে এক ছাত্র রশিদের রাইটার হিসেবে সহযোগিতা করছে। বোর্ডের থেকে অনুমতি মেলার পর এদিন রাইটার নিয়ে পরীক্ষা দিতে আসে রশিদ রশিদদের বাড়ি দিনহাটার বড় আটিয়াবাড়ী দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের নামাটারি এলাকায়। একদিকে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা অন্যদিকে সংসারে আর্থিক অনটন। এই দুইকে উপেক্ষা করেও নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকে ভবিষ্যতে রশিদ শিক্ষক হতে চায়। মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন রাইটার নিয়ে ঠিক একইভাবে রাইটার নিয়ে এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। পরীক্ষার প্রথম দিন থেকে বাবা আমিনাল মিয়া ছেলে রশিদকে ব্লক প্রশাসনের দেওয়া হুইল চেয়ারে করে নিজেই ঠেলে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে আসে। আবার পরীক্ষা শেষ হলে হুইল চেয়ারে করেই তাকে নিয়ে যায় বাড়িতে। জন্মের পরের থেকেই রশিদ সেভাবে চলাফেরা করতে পারে না। দু’টি হাত থাকলেও লিখতে পারেনা।মাঝপথে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলেও শিক্ষক সিদ্ধেশ্বর সাহার সহযোগিতায় আবারও শুরু করে পড়াশোনা।রশিদ মিয়া বলেন,”আমার হাত ও পা অবশ। লিখতে পারিনা, চলাফেরা করতে পারিনা। রাইটার নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছি। ভবিষ্যতে শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে। পড়াশোনা করার ইচ্ছে থাকলেও বাঁধ সাধছে একদিকে প্রতিবন্ধকতা অন্যদিকে আর্থিক অনটন। একসময় পড়াশুনা ছেড়েই দিয়েছিলাম। সিদ্ধেশ্বর সাহা আমাকে নানাভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করে। এছাড়াও নানাভাবে সহযোগিতা করছেন। তাই পরীক্ষা দিতে পারছি।রশিদের বাবা আমিনাল জানিয়েছেন, জন্ম থেকেই ছেলে শারীরিকভাবে অক্ষম। হাত থাকতেও লিখতে পারেনা। চলাফেরা করতে পারে না। আমি দর্জির কাজ করি এবং আমার স্ত্রী রশিদা বিবি অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ করে। শারীরিকভাবে অক্ষম হওয়া সত্ত্বেও রশিদের পড়াশুনায় যথেষ্ট ঝোঁক রয়েছে। সংসারে আর্থিক অনটনে মাঝপথে পড়া ছেড়ে দিতে চেয়েছিল। গৃহশিক্ষক সিদ্ধেশ্বর সাহা সবরকম ভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। তাঁরই তত্ত্বাবধানে রশিদ পড়াশোনা করছে। এবছর সে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। আমার এক ছেলে দুই মেয়ে। ছেলে রশিদ বড়। সংসারে আর্থিক অনটনের মধ্যেও অনেক কষ্টে করে ছেলেকে পড়াচ্ছি। এই অবস্থায় যথেষ্ট সমস্যায় পড়েছি।স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য দোলেনা বিবি বলেন,” ওই পরিবারের মহিলা রশিদা বিবি যেমন লক্ষীর ভাণ্ডার পাচ্ছে তেমনি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন রশিদ প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে। তবে ওই পরিবার যাতে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে কোনভাবেই বঞ্চিত না হয় সেটা আমরা অবশ্যই দেখবো।বড় আটিয়াবাড়ী ২ অঞ্চল তৃণমূল নেতা পঙ্কজ মহন্ত বলেন,”ওই পরিবার যাতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয় সেটা আমাদের নজরে রয়েছে। আবাস যোজনায় ঘর যাতে পায় সেটাও আমরা দেখছি। এছাড়াও শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে একটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জেলা অ্যাডভাইসারি কমিটির দিনহাটার আহ্বায়ক মানস চক্রবর্তী, কার্তিক ভৌমিক জানিয়েছেন, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন রশিদ মিয়া রাইটার নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। বোর্ডের পক্ষ ওই পরীক্ষার্থীর রাইটার নিয়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।










