পুরনো সৈনিকেই আস্থা বঙ্গের শাসক দলের

tmc-flags8

তুষার পাটোয়ারি

কোলকাতা: ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তারকা প্রার্থী নিয়ে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। তবে সব জল্পনার অবসান করে পুরনো সৈনিকেই আস্থা রেখছেন বঙ্গের শাসক দল। কয়েকটি আসনে নতুন মুখ, তারুণ্যে জোর দিয়ে প্রার্থী ঘোষণা করলেন তূণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের তালিকায় ৪৭ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী। ৩১ বছরের নিচে ৪জন। ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৩৮ জন। ৩১ শতাংশ প্রার্থীর বয়স ৪১ থেকে ৫০। মহিলা প্রার্থী ৫২ জন। এবার আর কোনও নতুন টলিউডি চমকে নয়! বরং পুরনোদের উপরেই আস্থা রাখলেন তৃণমূল নেত্রী।
টিকিট পেলেন না কাঞ্চন মল্লিক, চিরঞ্জিৎ।এবারও বারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হচ্ছেন রাজ চক্রবর্তী, বরানগর থেকে সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হচ্ছেন সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সি, চন্দননগর থেকে প্রার্থী হচ্ছেন ইন্দ্রনীল সেন।ভবানীপুরে মমতা, বেলেঘাটায় কুণাল! কয়েকটি আসনে নতুন মুখ, তারুণ্যে জোর দিয়ে প্রার্থী ঘোষণা তূণমূলের তালিকায় পরেশ-বালু, বাদ পার্থ-মাণিক এবার প্রার্থী করা হয়েছে অভিনেতা সোহমকেও। তবে এবার তাঁর কেন্দ্র বদল হয়েছে।
চন্ডীপুরের বদলে করিমপুর থেকে এবার অভিনেতাকে প্রার্থী করা হয়েছে। ‘সেলেব’ তালিকায় শুধু নতুন সংযোজন শ্রেয়া পাণ্ডে। প্রয়াত সাধন পাণ্ডের ‘গড়’ হিসাবে পরিচিত মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। গত বিধানসভা উপনির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হয়েছিলেন সাধন পাণ্ডের স্ত্রী তথা শ্রেয়ার মা সুপ্তি পাণ্ডে। কিন্তু এবার শ্রেয়াতেই আস্থা দলনেত্রীর।
কিন্তু কেন এবার প্রার্থী তালিকায় নতুন কোনও টলিউডি নামকে রাখা হল না?রাজনৈতিকমহলের একাংশের মতে, শাসকদল তৃণমূল এবার চমকে নয়, বরং পারফর্মেন্সের ভিত্তিতেই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে। আর সেই কথা একাধিকবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যেও উঠে এসেছে। কোনও নেতাকে ধরে যে প্রার্থী হওয়া যাবে না তাও বহুবার স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। শুধু তাই নয়, বাংলার একাধিক ভোটে তারকা প্রার্থীকে কেন্দ্র করে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে তৃণমূলকে।
তৃণমূলের সৈনিক হিসেবে সারা বছর কাজ করেও অনেক ক্ষেত্রেই টিকিট না পাওয়ায় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশও ঘটেছে, যা নিয়ে ভোটের মুখে অস্বস্তির মধ্যেও পড়তে হয়েছে দলকে। এখানেই শেষ নয়, তারকা প্রার্থী হিসাবে জয়ের পর তাঁদের কাজ নিয়েও অনেক প্রশ্ন থেকে যায়। বহু ক্ষেত্রেই অভিযোগ ওঠে, ডাকলেই নাকি তাঁদের পাওয়াও যায় না! তাই কি এবার তারকা প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই ‘সাবধানী’ শাসকদল তৃণমূল? টিকিট পেলেন রাজ চক্রবর্তী। বলেন, “ভালোই লাগছে। আবার নতুন করে লড়াই।
৫ বছর আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করছি, আমার বিধানসভা এলাকার মানুষেরা বরাবরের মতো এবারেও আমাকে সমর্থন করবেন। আমার পাশে থাকবেন। আমার এক্তিয়ারের মধ্যে থেকে এযাবৎকাল যতটা চেষ্টা করার বিধায়ক হিসেবে, সেটা করেছি। দলও খুশি। সেই জন্যেই আমাকে দ্বিতীয়বারের জন্য সুযোগ দিয়েছে। এবারও যথাসাধ্য চেষ্টা করব আমি। প্রতিপক্ষ নিয়ে এই মুহূর্তে কোনও ভাবনা নেই। কাজের নীরিখেই লড়াইটা হবে। বারাকপুরে যতটা কাদের প্রয়োজন ছিল, আমি তার ৭০ শতাংশ করতে পেরেছি।
কোনও বাকবিতণ্ডার মধ্যে যেতে চাই না। আমি কী করেছি, আর প্রতিপক্ষরা কী করেছে, এবং আমাদের দল মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে যে পরিষেবা দিয়েছেন সেটাই সকলের সামনে তুলে ধরা। আর আগামী দিনে কী করতে পারি আমরা, সেটাই এখন লক্ষ্য।” ভোটপ্রচারের পাশাপাশি সিনেমা-সিরিজের শুটিংও চলবে, বলে জানালেন রাজ চক্রবর্তী। ভবানীপুরেই লড়বেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শশী পাঁজা টিকিট পেলেন শ্যামপুকুরে। শওকত মোল্লাকে ভাঙড় থেকে প্রার্থী করল তৃণমূল। মদন মিত্রকে প্রার্থী করা হয়েছে কামারহাটি থেকে। বরানগর থেকে সায়ন্তিকা।
বেলেঘাটা থেকে টিকিট পেলেন কুণাল ঘোষ। হাবড়া থেকে তৃণমূলের প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। টিকিট পেলেন না কানাই মণ্ডল। নওদায় প্রার্থী নিয়ামত শেখ। অভিনেতা-রাজনীতিবিদ সোহম চক্রবর্তীকে চণ্ডীপুর থেকে সরিয়ে তেহট্টের প্রার্থী করল তৃণমূল কংগ্রেস। আমডাঙা থেকে তৃণমূলের হয়ে ভোটে লড়বেন পীরজাদা কাশেম সিদ্দিকি। তালিকা ঘোষণা তৃণমূলের। চাঁচল থেকে প্রাক্তন আইপিএস প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করল ঘাসফুল শিবির। গত লোকসভা ভোটেও তৃণমূলের টিকিটে মালদহে লড়েছিলেন তিনি। অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণ প্রার্থী।
জলপাইগুড়ির কন্যা ২০১৮ সালে এশিয়াডে সোনা জিতলেও পরে চোটের কারণে খেলা ছাড়ার কথা জানিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি রেলকর্মী। তাঁকে রাজগঞ্জ থেকে প্রার্থী করল তৃণমূল। তুফানগঞ্জ থেকে প্রার্থী প্রাক্তন ক্রিকেটার শিবশংকর পাল। এদিন পাহাড় নিয়ে মমতা বলেন, “দার্জিলিংয়ে ৩ টে সিট আমরা লড়ছি না। আনীত থাপারা আছে, ওদের সঙ্গে আমরা আছি। বাকির২৯১ আসনে আমরা প্রার্থী দিচ্ছি। আমরা তীর্থের কাকের মতো বসে থাকি না। সব একসঙ্গে করে দিলাম। যারা পুরোনো পেলেন না আমায় ভুল বুঝবেন না। তাদের অন্য কাজে লাগাবো। জোটবদ্ধভাবে দলবদ্ধভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই হবে।”

About Author

Advertisement