নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কংগ্রেস তার রাজনৈতিক প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এবং বিজেপির পর, এবার কংগ্রেসও বঙ্গের রাজনীতির লড়াইকে নিয়ে পূর্ণ কার্যক্রমে নেমেছে। এই ধারাবাহিকতায়, দল ১৭ জানুয়ারি দিল্লির ইন্দিরা ভবনে বিকেল ৪টায় একটি উচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত বৈঠক করতে যাচ্ছে। এই বৈঠকে সংগঠন, কৌশল এবং সম্ভাব্য জোট নিয়ে গভীর আলোচনা হবে। সূত্রের খবর, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সূত্র অনুযায়ী, বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে, এআইসিসি মহাসচিব (সংগঠন) কে.সি. বেনুগোপাল, এআইসিসি মহাসচিব ও পশ্চিমবঙ্গ প্রভাষক গোলাম আহমেদ মীর, পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি শুভঙ্কর সরকারসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। পশ্চিমবঙ্গের সিনিয়র নেতা ও বৈঠকে অংশ নিয়ে রাজ্যের স্থিতি সম্পর্কে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অবহিত করবেন।
কৌশল থেকে সংগঠন পর্যন্ত হবে গভীর বিশ্লেষণ:
বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংগঠনের শক্তি ও দুর্বলতা, বুথ স্তরের প্রস্তুতি, প্রচার কৌশল এবং নির্বাচনী ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। দলীয় নেতৃত্বের জোর থাকবে সংগঠনকে নতুনভাবে সক্রিয় করা এবং জনগণের সঙ্গে সংযুক্ত ইস্যুকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী ন্যারেটিভ তৈরি করা।
কংগ্রেস সূত্রের খবর, ১৮ জানুয়ারি কলকাতায় দলের স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠক হবে। এছাড়াও রাজ্য রাজনৈতিক কর্ম সংস্থা (পিএসি), নির্বাচন কমিশন এবং সিনিয়র পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক হবে। এই বৈঠকে প্রার্থী নির্বাচনের, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং নির্বাচনী সমন্বয় সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
জোট নিয়েও হবে আলোচনা:
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৭ জানুয়ারির বৈঠকে কংগ্রেস এই সিদ্ধান্তও নেবে যে, তারা বিধানসভা নির্বাচনে কোন কোন দলের সঙ্গে জোট করবে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রাজ্যের অবস্থানকে বিবেচনা করে, জোট নিয়ে সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের নির্বাচনী দিকনির্দেশ নির্ধারণ করবে। কংগ্রেস সুধীপ রায় বর্মন, শকিল আহমেদ খান এবং প্রকাশ জোশিকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সিনিয়র পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছে, যারা রাজ্যে সংগঠন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির উপর নজর রাখবেন।
ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে কৌশলগত পদক্ষেপ:
উল্লেখযোগ্য যে, এই পুরো প্রস্তুতি এমন সময়ে হচ্ছে, যখন পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই ইস্যুতে টিএমসি এবং কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য নয়, বরং বঙ্গের রাজনীতির পরবর্তী দিকনির্দেশ নির্ধারণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত ভাবা হচ্ছে।









