পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার মহিলা মুখ্যসচিব

bvmb9pic_nandini-chakraborty_625x300_01_January_26

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ইতিহাসে প্রথমবার কোনও নারী আধিকারিককে রাজ্যের মুখ্যসচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। রাজ্য সরকার ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবা (আইএএস)-এর সিনিয়র অফিসার নন্দিনী চক্রবর্তীকে নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে নিয়োগ করেছে। এই সম্পর্কিত বিজ্ঞপ্তি বুধবার রাতেই নবান্ন থেকে জারি করা হয়।
নিবর্তমান মুখ্যসচিব মনোজ পান্তকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান সচিব (প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি) করা হয়েছে। তাঁর মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হয়ে গিয়েছিল, যা রাজ্য সরকারের অনুরোধে কেন্দ্র ছয় মাস বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করেছিল। মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন বছর শুরুর আগে নতুন মুখ্যসচিব নিয়োগ করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
নন্দিনী চক্রবর্তী এর আগে গৃহ, পাহাড় এবং পর্যটন দপ্তরের সচিব হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁর জায়গায় জগদীশ প্রসাদ মীণাকে রাজ্যের নতুন গৃহসচিব করা হয়েছে। মীণা ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
১৯৯৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার নন্দিনী চক্রবর্তীর চাকরির মেয়াদ ২০২৯ সালের জুন মাসের শেষ পর্যন্ত। অর্থাৎ তিনি ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন। বুধবার নবান্নে নিবর্তমান মুখ্যসচিব মনোজ পান্ত ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁর উত্তরাধিকারীকে শুভেচ্ছা জানান।
নন্দিনী চক্রবর্তীকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩-এ রাজ্যের গৃহসচিব করা হয়েছিল। তিনি পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মহিলা গৃহসচিব। এর আগে বাম আমলে লীনা চক্রবর্তী প্রথম মহিলা গৃহসচিব হয়েছিলেন। নন্দিনীর নিয়োগের সময় রাজনৈতিক বিতর্কও দেখা দেয়। বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, সিনিয়র আধিকারিকদের উপেক্ষা করে এই নিয়োগ করা হয়েছে। তবে সরকারি নিয়মে এমন নিয়োগে কোনও আইনি বাধা নেই এবং একে প্রশাসনিক প্রথার অংশ হিসেবেই ধরা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মনোজ পান্তকে প্রধান সচিব করে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এই নিয়োগ মনোজ পান্তের জন্য কার্যত পদোন্নতির সমতুল্য। একই সঙ্গে অসুস্থ বর্তমান প্রধান সচিব গৌতম সান্যালের কাজের চাপও এতে কিছুটা কমেছে।
নতুন গৃহসচিব জগদীশ প্রসাদ মীণাকে নিয়ে নবান্নে আলোচনা চলছে। তাঁকে রাজ্যের প্রশাসনিক ইতিহাসে সবচেয়ে কনিষ্ঠ গৃহসচিব হিসেবে ধরা হচ্ছে, কারণ তিনি সরাসরি সচিব স্তর থেকেই এই দায়িত্বে এসেছেন। প্রচলিত নিয়মে এ পদে সাধারণত অতিরিক্ত মুখ্যসচিব স্তরের আধিকারিকদের নিয়োগ করা হয়। প্রশাসনিক সূত্র বলছে, মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে কাজ করলে প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় থাকবে।
নন্দিনী চক্রবর্তীর প্রশাসনিক জীবন নানা উত্থান–পতনে ভরা। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁকে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব করা হয়। ২০২২ সালে সি. ভি. আনন্দ বোস রাজ্যপাল হওয়ার পর নন্দিনীকে রাজভবনের প্রধান সচিব করা হয়, কিন্তু পরে রাজ্যপালের আপত্তিতে তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে পর্যটন দপ্তরে পাঠানো হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি রাজভবনের তথ্য সরকারকে জানাচ্ছিলেন—যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
মুখ্যসচিব ও গৃহসচিবের নিয়োগের পাশাপাশি নবান্নে আরও কিছু প্রশাসনিক স্তরে রদবদল হয়েছে। বরুণ রায়কে পর্যটন দপ্তরের সচিব করা হয়েছে, আর দুসমন্ত নারিয়ালাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে জেল দপ্তরের সচিব করা হয়েছে। সুরিন্দর গুপ্তাকে প্রেসিডেন্সি ডিভিশনের ডিভিশনাল কমিশনার এবং অত্রি ভট্টাচার্যকে নেতাজি সুভাষ প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

About Author

Advertisement