কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বোসের আকস্মিক পদত্যাগের পর রাজ্যের রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে ঘিরে কেন্দ্র সরকার ও ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন।
শুক্রবার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে এসআইআর বিরোধী ধর্না মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, “এমন কী ঘটল যে রাজ্যপালকে এত তাড়াহুড়ো করে পদত্যাগ করতে হল?” কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আগে জগদীপ ধনখড় আর এখন সি. ভি. আনন্দ বোস পদ ছেড়েছেন। চিন্তার কিছু নেই, নির্বাচনের পরে পরের জনও চলে যাবেন।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ভারতীয় জনতা পার্টি যেকোনোভাবে বাংলার ক্ষমতা দখল করতে চায়। কিন্তু তাদের কাছে সবকিছু থাকলেও বাস্তবে কিছুই নেই। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি এসআইআর ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনকেও আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, খসড়া তালিকা প্রকাশের আগেই ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির পরে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৬৩ লক্ষ ৫৪ হাজারে পৌঁছেছে। এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ নাম বিবেচনাধীন রয়েছে, ফলে মোট সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, “এসআইআর শুরু হওয়ার আগেই বিজেপি নেতারা একই ধরনের সংখ্যা দাবি করেছিলেন, তাই এটাকে নিছক কাকতালীয় বলা যায় না।” তিনি আরও বলেন, “এই লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস রাস্তায় আন্দোলন চালিয়ে যাবে।”
এই সময় তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে ‘বয়কট বিজেপি’র আহ্বান জানান এবং সাধারণ মানুষকে বিজেপির সামাজিক বয়কট করার আবেদন করেন। পাশাপাশি ‘লক্ষ্মী ভাণ্ডার’ প্রকল্পের উল্লেখ করে তিনি কেন্দ্র সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, যদি কেন্দ্রও একইভাবে শর্তহীনভাবে এত বড় পরিসরে মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দিতে পারে, তবে তিনি রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেবেন।
শেষে তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের পাশে রয়েছেন কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাংলার ১০ কোটি মানুষ, আর এটিই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।









