সপ্তর্ষি সিংহ
কোলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া বৃদ্ধি এবং কর্মীদের টিফিন ভাতা বাড়ানোর দাবিতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতরে আবেদন জানানো হয়েছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল বাস ও মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর। বাস মালিকদের সাফ কথা, বর্তমান বাজারে খরচ যে হারে বেড়েছে, তাতে পুরনো ভাড়ায় আর নির্বাচন কমিশনকে বাস বা গাড়ি দেওয়া সম্ভব নয়। কমিশনের পক্ষ থেকে তাঁদের দাবি না মানলে ভোটের ডিউটিতে গাড়ির সংকটের আশঙ্কা করা হয়েছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল বাস ও মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ নারায়ণ বসু জানান, ২০২৪ সালের নির্ধারিত ‘হায়ারিং চার্জ’ বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, জ্বালানি বাদে বাসের ভাড়া ২,০৯০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,৮০০ টাকা এবং মিনিবাসের ক্ষেত্রেও সমপরিমাণ বৃদ্ধি চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেক কর্মীর জন্য টিফিন ভাতা ৩০০ টাকা এবং নাইট হল্ট বাবদ ৫০০ টাকা নির্ধারণের আবেদন জানানো হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও বক্তব্য, জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও শ্রমিক ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির জেরে পুরনো হারে পরিষেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এই বিষয়ে অল বেঙ্গল বাস মিনিবাস সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ভোটের সময় বাস দিয়ে কার্যত কোনো লাভ থাকে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাস চালানোর খরচ অনেক বেড়েছে। ভোটের সময় কমিশনকে বাস দিয়ে আমাদের তেমন কোনও লাভ থাকে না। তাই আগেভাগেই দাবি জানানো হয়েছে, যাতে ভোটের সময় ভাড়া নিয়ে কোনও সমস্যা বা অচলাবস্থা তৈরি না হয়।’একইসঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে আধাসামরিক বা কেন্দ্রীয় বাহিনী আসা শুরু করবে। এই নিয়ে রাস্তায় নেমে বাস অধিগ্রহণ শুরু হবে। এই বিষয়ে বাস মালিকদের বক্তব্য, সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় বাধ্যতামূলক ভাবে বাস দিতে হয়, কিন্তু সেই অর্থে মালিকেরা ন্যায্য পারিশ্রমিক পান না। পাশাপাশি শ্রমিকদের একটানা ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করতে বলা হয়, অথচ উপযুক্ত খোরাকি বা সুযোগ-সুবিধা মেলে না। এর ফলে শ্রমিক অসন্তোষও বাড়ছে। সঙ্গে রাস্তা থেকে আচমকা বেসরকারি বাস তুলে নেওয়া হলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জন্য কী বন্দোবস্ত করা হবে, তা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।










