নিজামের দরবারে জেমস অ্যাকিলিস কার্কপ্যাট্রিকের সচিব রাসেল

IMG-20260302-WA0033

বেবি চক্রবর্ত্তী

রাসেল ১৭৯৮ সাল থেকে ১৮০৫ সাল পর্যন্ত হায়দ্রাবাদ ও বেরারের নিজামের দরবারে ব্রিটিশ বাসিন্দা জেমস অ্যাকিলিস কার্কপ্যাট্রিকের একান্ত সচিব ও সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর কর্মজীবন সম্পর্কে ২০০২ সালে প্রকাশিত ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাসভিত্তিক এক গ্রন্থে তাঁকে প্রতিভাবান হলেও দুর্বল কূটনীতিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
রাসেল কার্কপ্যাট্রিকের বিধবা, হায়দ্রাবাদের সম্ভ্রান্ত মহিলা খায়র-উন-নিসাকে প্রলুব্ধ করেছিলেন। তবে স্বল্পস্থায়ী সম্পর্কের পর তাঁকে পরিত্যাগ করেন। ১৮০৯ সালে তাঁকে পুনেতে পেশোয়ার দরবারে নিজ অধিকারে রেসিডেন্ট নিযুক্ত করা হয় এবং পরের বছর হায়দ্রাবাদে কার্কপ্যাট্রিকের প্রাক্তন আবাসে পদোন্নতি দেওয়া হয়। ১৮১০ থেকে ১৮২০ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে দুর্নীতির তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায় তিনি পদত্যাগ করেন, যা না হলে অপমানজনকভাবে অপসারণের কারণ হতে পারত।
অবসর গ্রহণের পর প্রথমে তিনি বেডফোর্ডশায়ারের সাটন পার্কে এবং পরে এক্সেটারের স্থাপত্যগতভাবে উল্লেখযোগ্য সাউদার্নহে হাউসে বসবাস করেন। এটি ছিল স্তম্ভশোভিত জাঁকজমকপূর্ণ ধ্রুপদী প্রাসাদ। ১৮২০ সালে রাসেল পরিবার, যার মধ্যে তাঁর পিতা (প্রথম ব্যারোনেট) এবং তাঁর দুই সফল পুত্র চার্লস ও স্যার হেনরি (পরবর্তীকালে দ্বিতীয় ব্যারোনেট) তাঁদের সম্পদ একত্রিত করে বার্কশায়ারের রিডিংয়ের নিকট সোয়ালোফিল্ড পার্ক ক্রয় করেন। সেখানে তাঁরা ও তাঁদের বংশধররা দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় বসবাস করেন।
১৮০৮ সালের অক্টোবরে মাদ্রাজে তিনি জন কাসামাইজোরের কন্যা জেন অ্যামেলিয়া কাসামাইজোরকে বিবাহ করেন। কিন্তু বিবাহের মাত্র দুই মাস পর জেন হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন। পরে ১৮১৬ সালের ১৩ নভেম্বর তিনি ম্যারি ক্লোটিল্ড মোটেট দে লা ফন্টেইনকে বিবাহ করেন। তিনি ছিলেন একজন ফরাসি ক্যাথলিক এবং পন্ডিচেরির শেষ ফরাসি গভর্নর ব্যারন ফিফে দে সেন্ট কর্নেইলের বেনোইট মোটেট দে লা ফন্টেইনের কন্যা। তাঁদের ছয়টি সন্তান ছিল।
পরবর্তীকালে কিটির সঙ্গে জেমস উইন্সলো ফিলিপসের বিবাহ হয় ১৮২৯ সালের ২১ নভেম্বর। ফিলিপস ছিলেন সপ্তম হুসারস রেজিমেন্টের একজন ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা এবং কেনাওয়ে পরিবারের সদস্য। তাঁদের বিবাহ সুখের ছিল বলে জানা যায়। তাঁদের সাতটি সন্তানের মধ্যে চারজন প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত জীবিত ছিলেন—মেরি অগাস্টা, জন জেমস, এমিলি জর্জিনা ও এলিজাবেথ।
কার্কপ্যাট্রিকের পৈতৃক পরিবার দীর্ঘদিন তাঁকে ভারতে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে নিষেধ করেছিল। তবে হেনরি রাসেলের সহায়তায় প্রায় চার দশক বিচ্ছেদের পর তিনি তাঁর মাতামহীর সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন। যদিও তাঁদের সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি, ছয় বছর ধরে তাঁরা নিয়মিত ও আবেগঘন চিঠিপত্র আদানপ্রদান করেন।
উনিশ শতকের গোড়ার দিকে ব্রিটিশ ও কিছু ভারতীয়ের মধ্যে যে উষ্ণ সামাজিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, তার একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এখানে প্রতিফলিত হয়েছে। সে সময় ভারতে প্রতি তিনজন ব্রিটিশ পুরুষের মধ্যে একজন ভারতীয় মহিলাকে বিবাহ করতেন। আঠারো শতকের শেষভাগের ভারতের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং তাদের পারস্পরিক প্রভাবও এই বর্ণনায় উঠে এসেছে।


মূল কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাসিন্দা ক্যাপ্টেন জেমস অ্যাকিলিস কার্কপ্যাট্রিক, যিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে রাজকীয় মুঘল বংশোদ্ভূত হায়দ্রাবাদের সম্ভ্রান্ত মহিলা খায়র-উন-নিসাকে বিবাহ করেন। হায়দ্রাবাদে ব্রিটিশ প্রতিনিধি হিসেবে তাঁকে একদিকে নিয়োগকর্তা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা এবং অন্যদিকে নিজামের প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব প্রদর্শনের সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়েছিল।

About Author

Advertisement