‘দিল্লিতে সরকার ফেলে দেব’, হুঁশিয়ারি মমতার

IMG-20260307-WA0074

কলকাতা: বঙ্গভঙ্গ জল্পনার বিরোধিতা করে ফের হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শনিবার ধর্মতলায় এসআইআরের ধরনামঞ্চ থেকে সুর আরও চড়িয়ে মমতা বললেন, ‘‘বাংলা-বিহার ভাগ করে নাকি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হবে। একবার বাংলায় হাত দিয়ে দেখাক! বেশি বাড়াবাড়ি করলে দিল্লির সরকার ফেলে দেওয়া হবে।” বাংলা-বিরোধী কেন্দ্রীয় সরকারের এসআইআর-এর মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যার প্রতিবাদে ও বাংলার বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার হরণের চক্রান্তের বিরুদ্ধে ধর্না অবস্থানের দ্বিতীয় দিন। শনিবার সকালে ধর্না মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে যোগ দিলেন চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম কাটা যাওয়া ভোটাররা। নাম কাটা যাওয়া ভোটারদের সঙ্গে নিয়েই বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা কটাক্ষ করে বললেন, ‘অধিকার লুট করছে, ভোটাধিকার লুট করছে, এই লুটেরাদের ক্ষমা রয়েছে? নোটবন্দি, ভোটবন্দি, গ্যাসবন্দি, সংবিধানবন্দি। লড়তে পারে একমাত্র বাংলা। আমরা প্রমাণ করে দেব।’ এরপর তিনি আরও বলেন, ‘প্রমাণপত্র নিয়ে এসেছি জনগণের সামনে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করেছে ওরা। এঁদের সকলের আধার কার্ড রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, আধার কার্ড নথি হতে পারে। কমিশন সব অমান্য করছে। ভোটারদের নাম কেন কাটা হচ্ছে? জবাব দিন।’ মমতার আরও বক্তব্য, ‘নির্বাচন কমিশন শুধু বিজেপিকে সন্তুষ্ট করছে। আপনাদের জবাব দিতেই হবে মানুষকে, সংবিধানকে। ভ্যানিশ কুমার। পক্ষপাতদুষ্ট বিজেপি, ডার্টি, নটি বিজেপি। যারা ভোটারদের নাম ডিলিট করছে, তারাও তা-ই। স্বার্থপর দৈত্যের মতো কাজ করছে।’ সম্প্রতি বঙ্গ বিজেপির নেতাদের বক্তব্যে একাধিকবার উঠে এসেছে বঙ্গভঙ্গের কথা। প্রশাসনিক সুবিধা-অসুবিধা, সংস্কৃতির ভিত্তিতে কখনও দার্জিলিংয়ের পার্বত্য অঞ্চল, কখনও রাঢ়বঙ্গ বিভাজনের কথা বলেছেন তাঁরা। তা নিয়ে তরজাও কম হয়নি। প্রতিবার ভোটের আগেই এই ইস্যুতে তপ্ত হয়ে ওঠে নির্বাচনী প্রচার। সম্প্রতি বিজেপি নেতারা প্রায়ই বাংলা লাগোয়া বিহারের এলাকা এবং সীমান্তের বাংলাদেশ সংলগ্ন কয়েকটি জেলাকে পৃথক করে বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরির দাবি করেছেন বারবার। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। রাজ্যে এসআইআরের কাজ শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর প্রচুর নাম বাদ পড়া এবং অনেকের বিচারাধীন হওয়ার বিষয়টি এই মুহূর্তে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাঁদের অধিকার রক্ষায় ধর্মতলা অবস্থান বিক্ষোভ করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এর মাঝেও বাংলার প্রতি কোনওরকম অন্যায় বরদাস্ত করবেন না তিনি, তাও বুঝিয়ে দিলেন স্পষ্ট। শুক্রবার দুপুর থেকে ধর্মতলার মঞ্চে প্রতিবাদ শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতে সেখানেই বিশ্রাম নিয়েছিলেন। আর শনিবার বেলার দিকে সেই ধরনামঞ্চ থেকে একাধিক ইস্যুতে বিজেপিকে নিশানা করে তোপ দেগেছেন। বঙ্গভঙ্গ ইস্যুতে একেবারে কেন্দ্রের বিরোধিতায় খড়গহস্ত হয়ে ওঠেন তিনি। মমতার কথায়, ‘‘শয়তানরাই কাউকে কাউকে এই বিষয়টি খাইয়েছে। বাংলা-বিহার ভাগ করে নাকি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হবে। আমি বলি, একবার বাংলায় হাত দিয়ে দেখাক! এত অহংকার কীসের? চন্দ্রবাবু নায়ডুর দয়ায় টিকে রয়েছে এই সরকার। টিমটিম করে জ্বলছে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে দিল্লির সরকার ফেলে দেওয়া হবে।” অর্থাৎ রাজনৈতিকভাবে দিল্লি থেকে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন সরকারকে উৎখাত করার হুঙ্কার দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। নাম কাটা যাওয়া সকল ভোটারদের আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এরা আমার ভোটার। আমাকে কাটবে! ঘেঁচু করবে। হোঁদল কুতকুত আছে, তিনি বসে বসে কলকাঠি নাড়ছেন। চার মাস ধরে দখল করেছো বাংলা। নির্বাচনের ১৫ দিন আগে ধনখড়ের মতো বদল করলে আনন্দ বোসকে। আর কত? কত নেবে মানুষের প্রাণ? স্বৈরাচারী, ধ্বংসকারী, হঠকারী। এত মানুষের মৃত্যু, হৃদয়ে মায়া জাগে না! যার নাম কেটেছে, ভাবছে, আমি কি এদেশে থাকতে পারব। আমি পাশে আছে। চিন্তা করবেন না।এদিন সকালে ধর্নামঞ্চে আরও একটি বড় চমক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য বাজেটে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য যুবসাথী প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। ঠিক ছিল ১ এপ্রিল থেকে প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে বেকার ভাতার টাকা। আজ মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, শনিবার থেকেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে যুবসাথীর টাকা। এই ঘোষণায় খুশি বাংলার বেকার যুবক-যুবতীরা।এই বছর রাজ্য বাজেটে যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। প্রথমে ঘোষণা করা হয়েছিল আগস্ট মাস থেকে এই টাকা দেওয়া হবে। পরে নবান্ন থেকে মমতা ঘোষণা করেন যে এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে টাকা দেওয়া শুরু হবে। ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের অন্য কোনও জনমুখী প্রকল্পের আওতায় যদি কেউ সুবিধা পেয়ে থাকেন, তাঁরা টাকা পাবেন না। পাঁচ বছর এই টাকা দেওয়া হবে। তারপরেও যদি কেউ বেকার থাকেন তাহলে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপরেই ধর্নার দ্বিতীয় দিনে আচমকা মমতার ঘোষণা, ৭ মার্চ শনিবার থেকেই আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা। শনিবার থেকে দেশজুড়ে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গ্যাসের দাম আবার বাড়ানো হয়েছে। এখন আপনাকে ২১ দিন আগে গ্যাস বুক করতে হবে, তাহলে আপনার বাড়িতে গ্যাস শেষ হয়ে গেলে ২১ দিন আপনি কী করবেন? আপনি কী খাবেন? আপনি কি মানুষের জন্য খাবারের হোম ডেলিভারি দেবেন? এমনকি কেরোসিনের কোটাও কমানো হয়েছে। আপনি প্রতিদিন জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছেন। এই কারণেই আপনি ভোট মুছে ফেলতে চান? বাংলা ভাঙতে চান? অন্যরা হয়তো আপনাকে ভয় পাচ্ছে, আমরা নই। আমরা আপনার মুখোশ খুলে দেব।তিনি জানিয়েছেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ইস্যুতে রবিবার ফের পথে নামবেন। কালো শাড়ি পরে হাতা, খুন্তি হাতে মহিলাদের মিছিলে শামিল হওয়ার আর্জি জানান মমতা।

About Author

Advertisement