ব্যাংকক: থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কাছে একটি সড়কে বৃহস্পতিবার আরও একটি নির্মাণ দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এর ঠিক একদিন আগেই দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চলন্ত একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত ক্রেন পড়ে অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ না মিললেও, স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মী ও উদ্ধারকর্মীদের কার্যক্রম কভার করা ‘ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ থাইল্যান্ড’-এর ফেসবুক পেজ জানিয়েছে, এই ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনাটি একটি এলিভেটেড সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের স্থলে ঘটে।
এদিকে, প্রাদেশিক গভর্নর অনুফং সুকসোমনিত জানিয়েছেন, নাখোন রত্চাসিমা প্রদেশে বুধবারের ট্রেন দুর্ঘটনায় জীবিতদের খোঁজার কাজ শেষ হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ বলে মনে করা তিন যাত্রী সম্ভবত দুর্ঘটনার আগে ট্রেন থেকে নেমে গিয়েছিলেন, যদিও বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।
ট্রেনে ছিলেন ১৭১ জন যাত্রী:
কর্তৃপক্ষের ধারণা, ট্রেনের তিনটি কামরায় মোট ১৭১ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হচ্ছিল। সরকারের জনসংযোগ দপ্তরের বিবৃতি অনুযায়ী, ব্যাংককের উপকণ্ঠে সামুত সাখোন প্রদেশের রামা–২ রোড এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় নয়টার দিকে একটি নির্মাণ ক্রেন ভেঙে পড়ে। এতে দুটি যানবাহন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে যায়, যার মধ্যে বিশাল ধাতব গার্ডারও ছিল। বিবৃতি অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে।
নাখোন রত্চাসিমায় ট্রেন দুর্ঘটনাস্থলে বুধবার রাতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবারও ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কাজ চলেছে। এই দুর্ঘটনায় ক্রেন পড়ে একটি চলন্ত ট্রেন লাইনচ্যুত হয় এবং ট্রেনের কিছু অংশ ক্রেনের নিচে চাপা পড়ে।
নাখোন রত্চাসিমা প্রদেশের পুলিশ প্রধান নারংস্যাক প্রোমতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, নিখোঁজ বলে উল্লেখ করা তিনজনের অবস্থান নিশ্চিত করতে পুলিশ সব যাত্রীর তথ্য যাচাই করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে প্রায় ৩০ বছর বয়সি এক দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকও রয়েছেন। মন্ত্রণালয় শোকাহত পরিবারকে কনস্যুলার পরিষেবা প্রদান করছে।











