তেইশে মার্চ কেন পালিত হয় শহিদ দিবস? জানুন এর ইতিহাস ও গুরুত্ব

Screenshot_20260323_004443_Chrome

নয়াদিল্লি: ভারতে প্রতি বছর তেইশে মার্চ শহিদ দিবস পালন করা হয়। এই দিনটি সেই সব বীর স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে, যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন। এই দিনে বিশেষভাবে বিপ্লবী ভগত সিং, শিবরাম রাজগুরু এবং সুখদেব থাপর-কে শ্রদ্ধা জানানো হয়, যাদের তেইশে মার্চ ১৯৩১ সালে ব্রিটিশ সরকার ফাঁসি দিয়েছিল।
শহিদ দিবসের গুরুত্ব~
শহিদ দিবস শুধুমাত্র তিনজন বিপ্লবীর স্মৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এই দিনটি সেই সব বীরদের সম্মানে পালন করা হয় যারা ভারতের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছেন এবং আত্মবলিদান দিয়েছেন। এই দিনটি দেশবাসীকে তাদের বীরত্ব, সাহস এবং ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং দেশপ্রেমের অনুভূতিকে আরও শক্তিশালী করে।
স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত ইতিহাস~
শহিদ দিবসের ইতিহাস ভারতের দীর্ঘ ও সংগ্রামময় স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত। প্রায় দুই শত বছর ধরে ব্রিটিশ শাসন ভারতে রাজত্ব করেছিল। কিন্তু দেশের বীর সন্তানরা ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন এবং স্বাধীনতার লড়াই শুরু করেন।
এই আন্দোলনে সমাজের সব স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেই সময়েই তরুণ বিপ্লবী ভগত সিং, শিবরাম রাজগুরু এবং সুখদেব থাপর ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লবের আহ্বান জানান এবং সারা দেশে স্বাধীনতার আন্দোলনকে আরও জোরদার করেন।
ঘটনা ও বিপ্লবীদের সংগ্রাম~
১৯২৮ সালে ভগত সিং এবং তাঁর সঙ্গীরা সেই ব্রিটিশ পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করেন, যাকে স্বাধীনতা সংগ্রামী লালা লাজপত রায়-এর ওপর হওয়া লাঠিচার্জের জন্য দায়ী মনে করা হয়েছিল। এই ঘটনা সারা দেশে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
এরপর ১৯২৯ সালে ভগত সিং এবং তাঁর এক সঙ্গী কেন্দ্রীয় বিধানসভায় বোমা নিক্ষেপ করে “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” স্লোগান দেন। তাদের উদ্দেশ্য কাউকে ক্ষতি করা ছিল না, বরং ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা ছিল। আদালতেও তারা নিজেদের বক্তব্যের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও দেশপ্রেমের বার্তা দেন, যার ফলে তারা সারা দেশের যুবকদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠেন।
আত্মবলিদানের দিন~
তেইশে মার্চ ১৯৩১ সালে ব্রিটিশ সরকার লাহোর জেলে ভগত সিং, শিবরাম রাজগুরু এবং সুখদেব থাপর-কে ফাঁসি দেয়। এই ঘটনা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে।
এই তিন বিপ্লবীর সাহস ও আত্মবলিদান সারা দেশে স্বাধীনতার চেতনা আরও শক্তিশালী করে এবং লক্ষ লক্ষ যুবককে স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিতে অনুপ্রাণিত করে।
কেন পালিত হয় শহিদ দিবস~
শহিদ দিবস পালনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র এই তিন বিপ্লবীকে স্মরণ করা নয়, বরং সেই সব বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজেদের সবকিছু উৎসর্গ করেছিলেন।
এই দিনটি আমাদের দেশপ্রেম, সাহস এবং আত্মত্যাগের চেতনাকে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং নতুন প্রজন্মকে এই বার্তা দেয় যে দেশের সেবা এবং তার জন্য আত্মনিবেদনই সবচেয়ে বড় সম্মান।

About Author

Advertisement