তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে বামফ্রন্টের প্রথম দফায় ১৯২ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা

IMG-20260316-WA0066

কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে সোমবার বিকেলে বামফ্রন্টের প্রথম দফার ১৯২ জন প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করেছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। তালিকাটি প্রকাশের পর দেখা যায়, আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে ঘোষিত এই প্রার্থী তালিকায় অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণদেরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথম দফার তালিকায় ২৮ জন মহিলা প্রার্থীকে স্থান দেওয়া হয়েছে।
প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়, আরএসপি-র রাজ্য সম্পাদক তপন হোর এবং সিপিআই-এর রাজ্য সম্পাদক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়।
উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ডিওয়াইএফআই নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (উত্তরপাড়া), দীপ্সিতা ধর (উত্তর দমদম), কলতান দাশগুপ্ত (পানিহাটি) এবং সায়নদীপ মিত্র (বরানগর)। পাশাপাশি যাদবপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সিপিআই(এম)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। পরে ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতা পুরসভা-র মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে বাম প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন এবং পরে ২০২০ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন।
কালীগঞ্জ আসনে বড় চমক দিয়েছে বামফ্রন্ট। সেখানে প্রার্থী করা হয়েছে বোমা হামলায় নিহত তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন-কে। যে কালীগঞ্জ উপনির্বাচনে তিনি নিজের মেয়েকে হারিয়েছিলেন, এবার সেই কেন্দ্র থেকেই তিনি নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
তবে প্রথম তালিকায় পরিচিত মুখ সৃজন ভট্টাচার্য বা শতরূপ ঘোষ-এর নাম আপাতত নেই। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগে বিমান বসু তাঁদের রাজনৈতিক লক্ষ্য স্পষ্ট করে বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে লড়াই করাই বামেদের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, বিজেপি-বিরোধী ও তৃণমূল-বিরোধী সব শক্তিকে একত্রিত করাই তাঁদের উদ্দেশ্য এবং বামপন্থার পুনরুত্থান ঘটানোই তাঁদের লক্ষ্য। জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বামফ্রন্টের শরিক ও সহযোগী দলগুলির সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং বাকি আসনগুলির প্রার্থীর নাম খুব শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে।
প্রথম দফায় উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কেন্দ্র ও প্রার্থী:
দমদম – ময়ূখ বিশ্বাস।
রাজারহাট-নিউটাউন – সপ্তর্ষি দেব।
বরানগর – সায়নদীপ মিত্র।
পানিহাটি – কলতান দাশগুপ্ত।
উত্তর দমদম – দীপ্সিতা ধর।
কালীগঞ্জ – সাবিনা ইয়াসমিন।
নোয়াপাড়া – গার্গী চট্টোপাধ্যায়।
খড়দা – দেবজ্যোতি দাস।
কামারহাটি – মানস মুখোপাধ্যায়।
কাকদ্বীপ – নারায়ণ দাস।
বারুইপুর পূর্ব – স্বপন নস্কর।
সাতগাছিয়া – গৌতম পাল।
বিষ্ণুপুর – শ্যামল দল।
কসবা – দীপু দাস।
যাদবপুর – বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।
সোনারপুর উত্তর – মোনালিসা সিনহা।
বেহালা পশ্চিম – নীহার ভক্ত।
মহেশতলা – সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়।
বেলেঘাটা – পারমিতা রায়।
উদয়নারায়ণপুর – ষষ্ঠী মাজি।
উত্তরপাড়া – মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।
শ্রীরামপুর – নবনীতা চক্রবর্তী।
সিঙ্গুর – দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়।
চন্দননগর – মনীষ পণ্ডা।
আরামবাগ – বীথিকা পণ্ডিত।
হরিপাল – সৌমেন মুখোপাধ্যায়।
চন্ডীপুর – রীতা দাস।
পটাশপুর – সৈকত গিরি।
কাঁথি উত্তর – সুতনু মাইতি।
কাঁথি দক্ষিণ – তেহরান হুসেন।
রামনগর – অশোক কুমার মাইতি।
দাঁতন – শ্যামলকান্তি দাস পট্টনায়েক।
ঝাড়গ্রাম – অর্জুন মাহাতো।
কেশিয়াড়ি – মলিনা মুর্মু।
খড়গপুর সদর – মধুসূদন রায়।
নারায়ণগড় – তাপস সিনহা।
ডেবরা – সুমিত অধিকারী।
ঘাটাল – শান্তিনাথ সাতিক।
বাঁকুড়া – অভয়ানন্দ মুখোপাধ্যায়।
রঘুনাথপুর – গণেশ বাউরি।
রানিবাঁধ – দেবলীনা হেমব্রম।
কোতুলপুর – রামচন্দ্র রায়।
সোনামুখী – অজিত রায়।
খণ্ডঘোষ – রামজীবন রায়।
বর্ধমান দক্ষিণ – সুদীপ্ত গুপ্ত।
রায়না – সোমনাথ মাঝি।
মেমারি – কৃষ্ণেন্দু ভদ্র।
ভাতার – হাসিনা খাতুন।
পূর্বস্থলী উত্তর – প্রদীপ সাহা।
কাটোয়া – সঞ্জিত দাস।
মঙ্গলকোট – মীরাজ আলম।
আউশগ্রাম – চঞ্চল মাঝি।
পাণ্ডবেশ্বর – প্রবীর মণ্ডল।
দুর্গাপুর পূর্ব – সীমন্ত চট্টোপাধ্যায়।
দুর্গাপুর পশ্চিম – প্রভাস সাঁই।
জামুরিয়া – মহম্মদ সাব্বির হুসেন।
আসানসোল – শিল্পী চক্রবর্তী।
শিলিগুড়ি – শরদিন্দু চক্রবর্তী।

About Author

Advertisement