তনিশ্ক্ উন্মোচন করল ‘হিউস’

IMG-20260411-WA0106

কলকাতা: পয়লা বৈশাখ ও অক্ষয় তৃতীয়ার প্রাক্কালে, টাটা গোষ্ঠীর বিশ্বস্ত জুয়েলারি ব্র্যান্ড তনিশ্ক্ এবার নজর দিচ্ছে ন্যাচারাল জেমস্টোন জুয়েলারির দিকে, যা বর্তমানে দেশের ক্রেতাদের মধ্যে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এখানে ১০০% প্রাকৃতিক রত্নের স্বতন্ত্রতা ও নান্দনিক ডিজাইনের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই পরিসরকে আরও সমৃদ্ধ করতে, তনিশ্ক্ নিয়ে এসেছে তাদের নতুন কালেকশন ‘Hues’, যা এই ক্যাটেগরিতে ব্র্যান্ডের নতুন দিশা তুলে ধরে। আধুনিক বাঙালি নারীরা এখন এমন গয়না খুঁজছেন, যেখানে থাকবে স্বাতন্ত্র্য, ব্যক্তিত্বের ছাপ, আর একসাথে তারুণ্যের আকর্ষণ ও পরিশীলিত রুচির মেলবন্ধন। এই পরিবর্তিত চাহিদাকে মাথায় রেখেই তনিশ্ক্ ন্যাচারাল জেমস্টোন জুয়েলারিকে এক বিশেষ মাত্রায় পৌঁছে দিতে চাইছে, যাতে তা দৈনন্দিন ব্যবহার থেকে শুরু করে বিশেষ অনুষ্ঠান, দুই ক্ষেত্রেই সমানভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কলকাতায় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে উন্মোচিত হল এই কালেকশন, যেখানে ডিজাইন, কারিগরি দক্ষতা এবং সমসাময়িকতার মেলবন্ধন ঘটেছে। এর মাধ্যমে তনিশ্ক্ আরও একবার বাংলার সঙ্গে তাদের গভীর সংযোগ এবং ক্রেতাদের চাহিদা সম্পর্কে সম্যক ধারণার কথা তুলে ধরেছে। রেড কার্পেটে নজর কাড়েন মিমি চক্রবর্তী, যিনি এই কালেকশনের ভাবনা ও মেজাজকে নিজের উপস্থিতিতে জীবন্ত করে তোলেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শ্রী অলোক রঞ্জন, সার্কেল বিজনেস হেড, E1, তনিশ্ক্। এই কালেকশনের কেন্দ্রে রয়েছে ‘সৃজনী’ র গল্প, এক আধুনিক বাঙালি নারী, যিনি নিজের পরিচয়ের পাশাপাশি চারপাশের জগতকেও নিজের মতো করে নির্মাণ করেন। তিনি স্পষ্টভাষী, আত্মবিশ্বাসী এবং নিজস্বতায় অকৃত্রিম; সহজেই ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মধ্যে তৈরি করেন এক স্বতন্ত্র সেতুবন্ধন। তিনি যে গয়নাই পরুন না কেন, তার মধ্য দিয়েই ফুটে ওঠে তাঁর নিজস্বতা, যেখানে প্রথা আর ব্যক্তিগত অভিব্যক্তি মিলেমিশে তৈরি হয় এক চলমান, ব্যক্তিগত স্টেটমেন্ট।
‘হিউস’ অনুপ্রেরণা নেয় ভারতীয় গ্রীষ্মের রঙের বৈচিত্র্য আর স্বাভাবিক প্রবাহ থেকে, যা নতুনভাবে রূপ পায় ভাস্কর্যধর্মী গঠনে এবং সাহসী, আধুনিক ডিজাইনের বিন্যাসে। প্রতিটি গয়নার কেন্দ্রে থাকে রত্নপাথর, বিশেষ যত্নে যার আকার ও গঠনের মাধ্যমে তার রঙ আর গভীরতাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এই কালেকশনে ক্লাসিক মারকুইজ থেকে সূক্ষ্ম তাবিজ কাট, আবার মসৃণ ক্যাবোশন ফিনিশ কাটের চমৎকার মেলবন্ধন দেখা যায়, প্রতিটি পাথরই নিজস্ব চরিত্র আর দীপ্তি নিয়ে প্রকাশ পায়। ক্যাবোশন কাটের ব্যবহার গয়নাকে দেয় এক নরম, ভাস্কর্যধর্মী আভা, আর স্তরে স্তরে রঙের বিন্যাসের সঙ্গে ‘বাঞ্চিং’ ও ‘স্লাইসিং’-এর মতো কৌশল যোগ করে বাড়তি গভীরতা, টেক্সচার আর গতিময়তা। ফলে প্রতিটি ডিজাইন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত, অভিব্যক্তিপূর্ণ এবং আধুনিক।
১৮ ক্যারেট সোনায় নির্মিত ‘হিউস’ এই অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনার গয়না পরার ধারণাকেই নতুনভাবে উপস্থাপন করছে- শুধু বিনিয়োগের সীমা পেরিয়ে, এখন তা হয়ে ওঠে ব্যক্তিত্বের প্রকাশ, যা পরিধানের জন্যই তৈরি। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে যত্ন সহকারে সংগৃহীত এমেরাল্ড, অ্যামেথিস্ট, সিট্রিন, টুরম্যালিন, টানজানাইটের মতো প্রাকৃতিক রঙিন রত্নপাথরের সংমিশ্রণে তৈরি এই কালেকশন। প্রতিটি পাথরই ১০০% প্রাকৃতিক, যার রঙ, স্বচ্ছতা ও নিজস্ব বৈশিষ্ট্য কঠোর মানদণ্ডে যাচাই করে নির্বাচন করা হয়েছে। স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ, আজীবন রক্ষণাবেক্ষণ এবং ১০০% এক্সচেঞ্জ ভ্যালুর নিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে এই কালেকশনের প্রতিটি গয়নাই শুধু সৌন্দর্যের নয়, বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্থায়ী মূল্যের প্রতীক। এর মাধ্যমে ভারতে ন্যাচারাল জেমস্টোন জুয়েলারির প্রতি আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতাও আরও দৃঢ় করে তুলছে তনিশ্ক্।
কালেকশনটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে, অলোক রঞ্জন, সার্কেল বিজনেস হেড, E1, তনিশ্ক্ বলেন, “‘হিউস’-এর মাধ্যমে আমরা বাংলায় নিয়ে এসেছি এমন একটি কালেকশন, যা একদিকে সংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত, অন্যদিকে আজকের ক্রেতার বদলে যাওয়া রুচি ও পছন্দকেও প্রতিফলিত করে। বিয়ে কিংবা উৎসব, সব ক্ষেত্রেই এখন গয়নায় ব্যক্তিত্বের ছাপ ও ডিজাইনের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে বাড়ছে। এই কালেকশনের মাধ্যমে আমরা এমন কিছু উপস্থাপন করতে চাই, যেখানে বহুমুখিতা, নিখুঁত কারিগরি এবং স্বতন্ত্র পরিচয়ের এক শক্তিশালী অনুভূতি মিলেমিশে যায়, যা আধুনিক বাঙালি নারীর সঙ্গে গভীরভাবে সংযোগ তৈরি করে। ‘হিউস’ শুধু গয়নার রঙের গল্প নয়, বরং তার পরিচয়ের নানা দিককে উদযাপন করার এক মাধ্যম।”
কালেকশনটি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে মিমি চক্রবর্তী বলেন, “তনিশ্ক্ এর এই কালেকশনটির সবচেয়ে ভালোলাগার দিকটাই হল—রঙের মাধ্যমে যেভাবে এটি খুব সহজেই নিজের প্রকাশকে উদযাপন করে। আমরা কী পরব, তা অনেক সময় আমাদের মনের অবস্থার উপর নির্ভর করে, প্রায় অনুভূতিনির্ভর একটি বাছাই। আর সেটাই আমাদের উপস্থিতিকে নীরবে বদলে দিতে পারে। ‘হিউস ব্যায় তানিস্ক’—তাই কোনও নির্দিষ্ট উপলক্ষের জন্য সাজা নয়, বরং নিজের জন্য সাজা—নিজের মুড, নিজের এনার্জি, নিজের মুহূর্তকে ধারণ করার কথা বলে। এতে এক ধরনের স্বাভাবিকত্ব আছে, ব্যক্তিগত ছোঁয়া আছে—এমন এক স্টাইল, যা সময়ের তালে চলে।”
₹৩০,০০০ থেকে শুরু হওয়া এই কালেকশনে রয়েছে এমন সব ডিজাইন, যা বিশেষ উপলক্ষ থেকে শুরু করে প্রতিদিনের পরিধান—দুই ক্ষেত্রেই সহজেই মানিয়ে যায়। অক্ষয় তৃতীয়াকে সামনে রেখে তনিশ্ক্ নিয়ে এসেছে আকর্ষণীয় উৎসব অফার—সোনার গয়নার মেকিং চার্জ এবং ডায়মন্ড ভ্যালুতে সর্বোচ্চ ২০% পর্যন্ত ছাড়*, সঙ্গে সোনার গয়না কেনাকাটায় প্রতি গ্রামে ফ্ল্যাট ₹২০১ পর্যন্ত ছাড়। এর পাশাপাশি ‘বিনিময় উৎসব’-এর সুবিধাও থাকছে, যার মাধ্যমে পুরনো সোনাকে বদলে নেওয়া যাবে নতুন, ব্যবহারযোগ্য ও অর্থবহ গয়নায়—যা এই সময়টাকে করে তোলে আপগ্রেডের জন্য একদম উপযুক্ত।

About Author

Advertisement