কলকাতা: বৈচিত্র্যময় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের জেএসডব্লিউ গ্রুপ -এর প্রধান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জেএসডব্লিউ স্টিল তাদের নতুন ডিজিটালি সক্ষম “দ্য জেএসডব্লিউ এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার” উদ্বোধনের ঘোষণা করেছে। এই এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারটি একটি অত্যাধুনিক পরিকাঠামো, যা ও-ই-এম গ্রাহক, এম-এস-এম-ই সংস্থা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নকারীদের কাছে কোম্পানির পণ্য, পরিষেবা ও সক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য নির্মিত।
এই এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারটি আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত, যা গ্রাহক, অংশীদার এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের জন্য একটি সম্পূর্ণ নিমগ্ন ও ইন্টারঅ্যাকটিভ অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এখানে প্রদর্শনী, ভিডিও এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ এক্সহিবিটের মাধ্যমে জেএসডব্লিউ স্টিল-এর বিস্তৃত স্টিল পণ্য ও সমাধানসমূহ তুলে ধরা হয়েছে।
এই সেন্টারে এসে গ্রাহকরা জেএসডব্লিউ স্টিল-এর উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি অঙ্গীকার প্রত্যক্ষ করতে পারবেন। এটি জেএসডব্লিউ স্টিল-এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, কারণ এর মাধ্যমে কোম্পানির সক্ষমতা, গুণমান, উদ্ভাবন ও স্থায়িত্বের প্রতি অঙ্গীকার তুলে ধরা সম্ভব হবে এবং গ্রাহক ও অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
ডিজিটালি সক্ষম জেএসডব্লিউ এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার স্টেকহোল্ডারদের পণ্য এবং তার ব্যবহারিক প্রয়োগ সহজে বুঝতে সাহায্য করে। এর মূল লক্ষ্য হল নতুন ও বিদ্যমান গ্রাহকদের স্টিলের অপরিসীম সম্ভাবনা সম্পর্কে শিক্ষিত ও অনুপ্রাণিত করা এবং আধুনিক সমাজে স্টিলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরা। স্টিল শিল্পে আগ্রহী সকলের জন্য এটি একটি মূল্যবান সম্পদ হিসেবে কাজ করবে।
দ্য জেএসডব্লিউ এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ~
জেএসডব্লিউ লিগ্যাসি ওয়াল:
এই লিগ্যাসি ওয়ালটি জেএসডব্লিউ স্টিল-এর যাত্রাপথ ও অগ্রগতির একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরবে, যা স্টিল শিল্পে কোম্পানির শক্ত অবস্থান এবং বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিফলিত করে।
জেএসডব্লিউ স্টিল প্রোডাক্ট ওয়াল:
কোরএক্স, ডি-আর-আই এবং কনআর্ক-এর মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জেএসডব্লিউ স্টিল হট রোল্ড স্টিল, কোল্ড রোল্ড স্টিল, কোটেড স্টিল, টিনপ্লেট, টি-এম-টি, ওয়্যার রড এবং বিশেষ অ্যালয় স্টিলসহ বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত পণ্য উৎপাদন করে। এই পণ্যগুলি নানা শিল্প ও গ্রাহক চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়। এল-ই-ডি স্ক্রিনের মাধ্যমে ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রদর্শনের সাহায্যে এই প্রোডাক্ট ওয়াল গ্রাহকদের পণ্য সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রদান করবে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে সহজ করবে।
জেএসডব্লিউ ডিজিটাল পোর্টাল:
ডিজিটালাইজেশন আজকের দিনে গ্রাহকদের পণ্য ও ব্র্যান্ডের সঙ্গে যোগাযোগের ধরণ সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। উন্নত গ্রাহক সম্পর্ক গড়ে তুলতে ডিজিটালাইজেশনকে গ্রহণ করে, জেএসডব্লিউ এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারে ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল কিয়স্ক থাকবে, যেখানে ব্যবহারকারীরা জেএসডব্লিউ স্টিল-এর পণ্যের পরিসর ঘেঁটে দেখতে পারবেন এবং কিউ-আর কোডের মাধ্যমে ব্রোশিওর ডাউনলোড করতে পারবেন। এই ডিজিটাল টাচপয়েন্টগুলি ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করবে এবং সমাধানগুলি আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করবে, যা ব্র্যান্ড সচেতনতা ও ক্রয় সিদ্ধান্তে সহায়ক হবে।
জেএসডব্লিউ মূল্যবোধ:
গত কয়েক দশকে জেএসডব্লিউ স্টিল-এর অগ্রগতি তার মূল মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। এই মূল্যবোধগুলি গ্রাহক, বিক্রেতা, কর্মী ও অংশীদারসহ সকল স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কোম্পানির কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। এই অংশটি জেএসডব্লিউ-এর ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে থাকা ৫ টি মূল মূল্যবোধের একটি তাৎপর্যপূর্ণ স্মারক।
জোকায় অবস্থিত এস. এন. বি. ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেড -এর নতুন জেএসডব্লিউ এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে উদ্বোধন করেন শ্রী তরুণ ঝা, শ্রী এম. ভি. কৃষ্ণ, শ্রী ডি. গোপীনাথ এবং শ্রী শ্যামল পাল।
জেএসডব্লিউ স্টিল সম্পর্কে:
জেএসডব্লিউ স্টিল হলো বৈচিত্র্যময় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের জেএসডব্লিউ গ্রুপ-এর প্রধান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ২০২১ সাল থেকে গ্রেট প্লেস টু ওয়ার্ক দ্বারা প্রত্যয়িত জেএসডব্লিউ স্টিল গত তিন দশকে একটি একক উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বেড়ে উঠে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৩৫.৭ এমটিপিএ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন করেছে। ভারতে সংস্থাটির উৎপাদন ক্ষমতা এফওয়াই ৩০-এর মধ্যে বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ এমটিপিএ হবে। কর্ণাটকের বিজয়নগরে অবস্থিত উৎপাদন কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা ১৭.৫ এমটিপিএ, যা ভারতের বৃহত্তম একক স্থানে অবস্থিত স্টিল উৎপাদন কেন্দ্র।
জেএসডব্লিউ স্টিল ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের স্টিল সাসটেইনেবিলিটি চ্যাম্পিয়ন স্বীকৃতি লাভ করেছে এবং ২০২২ সালে ওয়ার্ল্ড স্টিল ডায়নামিক্স-এর বিশ্বমানের স্টিল প্রস্তুতকারকদের তালিকায় ৮ম স্থান অর্জন করেছে। একটি দায়িত্বশীল কর্পোরেট নাগরিক হিসেবে জেএসডব্লিউ স্টিল-এর কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্য ভারতের প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।










