ঢাকা: বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনের জন্য বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে দেশজুড়ে বিক্ষোভের পর শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে (স্থানীয় সময়) ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলবে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই গণনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনে ভোট স্থগিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশে একটি জটিল ৮৪ দফা সংস্কার প্যাকেজ নিয়ে গণভোটের পাশাপাশি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) এবং তাদের প্রাক্তন মিত্র জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত বছর শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে ভেঙে দেয় এবং দলটির নির্বাচনে অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। নির্বাচন কমিশন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং প্রায় ১০ লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছে, যা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে সর্ববৃহৎ মোতায়েন বলে জানানো হয়েছে।
মোট ৫০টি রাজনৈতিক দলের ১,৭৫৫ জন প্রার্থী এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বিএনপি সর্বাধিক ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে। নির্বাচনে ৮৩ জন মহিলা প্রার্থী রয়েছেন।
ইউনুস জানিয়েছেন, তিনি শীঘ্রই নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। তিনি রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে ভোটের দিন সংযম, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ২,১৩১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১,৬১৪টিকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে সেনাবাহিনী ঢাকার দুটি ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছে। প্রথমবারের মতো নির্বাচনে নিরাপত্তার জন্য ড্রোন এবং ‘বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা’ (পোশাকে সংযুক্ত ক্যামেরা) ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১২.৭ কোটি ভোটারের মধ্যে ৩.৫৮ শতাংশ প্রথমবারের মতো ভোট দিচ্ছেন।









