নয়াদিল্লি: ভারত আবারও পাকিস্তানকে কড়া জবাব দিয়েছে। তবে এবার কোনো অস্ত্র নয়, বরং কূটনৈতিক পাল্টা বক্তব্যের মাধ্যমে জাতিসংঘে ভারতীয় প্রতিনিধি পাকিস্তানকে কার্যত কোণঠাসা করেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করার পর ভারত কঠোর ভাষায় ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে এই বিশ্ব সংস্থার মঞ্চকে নিজেদের ‘বিভাজনমূলক এজেন্ডা’ এগিয়ে নেওয়ার জন্য অপব্যবহার করার অভিযোগ তোলে।
জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের কাউন্সেলর এলডোস ম্যাথিউ পুন্নুজ বৃহস্পতিবার বলেন, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের অপব্যবহার করে বহুত্ববাদী ও গণতান্ত্রিক দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদ উসকে দেওয়া উচিত নয়।
তিনি বলেন, “যখন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে ওঠা উচিত, তখন পাকিস্তান জাতিসংঘের সব মঞ্চ ও প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করে নিজের বিভাজনমূলক এজেন্ডা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
জম্মু–কাশ্মীরের ‘অপব্যবহার’ প্রসঙ্গ:
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ‘সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে মহাসচিবের প্রতিবেদন’-এর ওপর জাতীয় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুন্নুজ বলেন, “এই মঞ্চও এর ব্যতিক্রম নয়, যেখানে পাকিস্তান ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরের অযৌক্তিক উল্লেখ করেছে।
তিনি আরও বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার জাতিসংঘ সনদের একটি মৌলিক নীতি। তবে এই অধিকারের অপব্যবহার করে বহুত্ববাদী ও গণতান্ত্রিক দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদ উসকে দেওয়া উচিত নয়। পাকিস্তানের এই অভ্যাস থাকলেও তাদের ভিত্তিহীন অভিযোগ ও মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া উচিত নয় এবং বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন ছবি তুলে ধরা থেকে বিরত থাকা দরকার।
পাকিস্তান ফের তুলল কাশ্মীর প্রসঙ্গ:
ভারতের এই তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমদের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে জম্মু ও কাশ্মীরের প্রসঙ্গ তোলার পর। পাকিস্তান বারবার জাতিসংঘের বিভিন্ন মঞ্চে কাশ্মীর ইস্যু তুললেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে তেমন সমর্থন পায়নি।
পুন্নুজ তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন যে, ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর দেশগুলো উন্নয়ন অর্থায়ন, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও আর্থিক সহায়তাসহ বহু ক্ষেত্রে বিশেষ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
গ্লোবাল সাউথ প্রসঙ্গ:
তিনি বলেন, “ভারত ধারাবাহিকভাবে এই বিষয়গুলো সব জাতিসংঘ মঞ্চে তুলে ধরেছে। এখন সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপের প্রয়োজন। সামনের দিনে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর উদ্বেগগুলোকে বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপে রূপান্তর করতে হবে।
উল্লেখ্য, ‘গ্লোবাল সাউথ’ শব্দটি সাধারণত অপেক্ষাকৃত কম উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য ব্যবহৃত হয়।










