চীন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জাপানের স্থায়ী সদস্যপদ প্রস্তাবের বিরোধিতা করল

202602223683221

নিউ ইয়র্ক: চীন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জাপানের স্থায়ী সদস্যপদের দাবির বিরোধিতা করেছে। চীনের প্রতিনিধি প্রকাশ্যে বলেছেন যে জাপান নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ার যোগ্য নয়। তাইওয়ান প্রসঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্তব্যের পরই চীনের এই প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নিরাপত্তা পরিষদের আসনের ন্যায্য বণ্টন এবং সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ইস্যু নিয়ে আন্তঃসরকারি আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু থসঙ তাঁর বক্তব্যে বলেন, জাপান তার ঐতিহাসিক আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করতে অস্বীকার করছে, যুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক শাসনব্যবস্থাকে অগ্রাহ্য করছে, অন্যান্য দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করছে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য নতুন হুমকি তৈরি করছে। এমন দেশ স্থায়ী সদস্যপদের দাবি করার যোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার নিয়ে চীনের অবস্থান:
ফু থসঙ নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার প্রসঙ্গে তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেন। প্রথমত, নিরাপত্তা পরিষদ শক্তিশালী ও ধনী দেশগুলোর ‘ক্লাব’ হয়ে উঠতে পারে না; সংস্কারের সুফল কেবল অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। দ্বিতীয়ত, উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব ও কণ্ঠস্বর প্রকৃত অর্থে বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণকারী ছোট ও মাঝারি দেশগুলিও নিরাপত্তা পরিষদে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।
আফ্রিকান দেশগুলোর পক্ষে চীন:
চীনা প্রতিনিধি বলেন, বিশেষ করে আফ্রিকার সঙ্গে হওয়া ঐতিহাসিক অবিচার সংশোধন করা উচিত এবং আফ্রিকান দেশগুলোর দাবিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, সংস্কার কেবল বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না; বরং কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে তা করা উচিত।
চীন-জাপান উত্তেজনা:
গত কয়েক মাস ধরে তাইওয়ান ইস্যুকে কেন্দ্র করে চীন ও জাপানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। জাপান তাইওয়ানে সম্ভাব্য চীনা আগ্রাসনকে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে চীন এটিকে তার সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন বলে দাবি করেছে। পূর্ব চীন সাগরে দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বিরোধ, সামরিক রাডার লক সংক্রান্ত ঘটনা এবং ঐতিহাসিক ক্ষোভ—এই সব কারণে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে।

About Author

Advertisement