নুক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তাঁর আগ্রাসী অবস্থানকে গত বছর তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। সোমবার প্রকাশিত এক বার্তায় ট্রাম্প নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন যে এখন তিনি কেবল শান্তির কথা ভাবতে বাধ্য বোধ করেন না। গভীর রাতে তিনি একটি এআই-নির্মিত ছবি পোস্ট করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে তিনি গ্রিনল্যান্ডে আমেরিকার পতাকা পুঁতে দাঁড়িয়ে আছেন; তাঁর পাশে উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রয়েছেন।
নরওয়ের নেতাকে পাঠানো বার্তায় ট্রাম্প নোবেল কমিটিকে উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য দায়ী করেন। সরকার যে বার্তার কিছু অংশ প্রকাশ করেছে তাতে ট্রাম্প লিখেছেন, “আপনার দেশ আটটিরও বেশি যুদ্ধ থামানো সত্ত্বেও আমাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়নি, এই পরিস্থিতিতে আমি আর শুধু শান্তির কথা ভাবতে বাধ্য নই।” সংক্ষেপে তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ডের ওপর আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকা পর্যন্ত বিশ্ব নিরাপদ হবে না।
ট্রাম্পের এই বার্তা ন্যাটোর সদস্য ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যে অচলাবস্থা আরও বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আট দেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ১০ শতাংশ শুল্কের হুমকি:
শনিবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডকে সমর্থনকারী আটটি দেশ, যার মধ্যে নরওয়েও রয়েছে, থেকে আসা পণ্যের ওপর ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে। এসব দেশ এর তীব্র বিরোধিতা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বহু পুরনো মিত্রের অবস্থান হলো, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়, তবে তারা সংকট সমাধানে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কাল্লাস সামাজিক মাধ্যমে বলেন, জোটটির “সংঘাতে জড়ানোর কোনো আগ্রহ নেই”, তবে তারা “নিজেদের অবস্থানে অটল থাকবে।” হোয়াইট হাউস গ্রিনল্যান্ডে জোরপূর্বক দখলের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়নি। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট নিজে সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত কোনো সম্ভাবনাই খারিজ করা যায় না।”
শুল্কের হুমকিতে নড়েনি গ্রিনল্যান্ড:
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সোমবার উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমার বিশ্বাস শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত এবং হতে পারে।” তিনি সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা নাকচ করেন।
গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ চলছে। হাজার হাজার গ্রিনল্যান্ডবাসী সপ্তাহান্তে দ্বীপ দখলের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন ফেসবুকে লিখেছেন যে শুল্কের হুমকিতে তাঁদের অবস্থান বদলাবে না।
এদিকে গ্রিনল্যান্ডের বাণিজ্য, খনিজ, জ্বালানি ও বিচারমন্ত্রী নাজা নাথানিয়েলসেন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, মিত্র দেশগুলোর দ্রুত প্রতিক্রিয়া তাঁকে আশাবাদী করেছে এবং এটি প্রমাণ করে যে “এটি কেবল গ্রিনল্যান্ডের বিষয় নয়, এটি তার চেয়েও বড় সংকট।” তিনি বলেন, “অনেক দেশই ভয় পাচ্ছে, গ্রিনল্যান্ড চলে গেলে এরপর কী হবে?










