খাওয়ার পর ঢেকুর, গ্যাস ও পেট ফাঁপা: ৭টি আয়ুর্বেদিক ঘরোয়া উপায়

stomach-ache-man-7997548

অনিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়া, মানসিক চাপ বা ঋতু পরিবর্তনের কারণে অনেকেরই খাওয়ার পর ঢেকুর, গ্যাস, পেট ফাঁপা এবং ভারীভাবের মতো সমস্যা দেখা দেয়। যদি এই সমস্যা বারবার হতে থাকে, তবে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়।
আয়ুর্বেদের মতে এই অবস্থাকে অজীর্ণ বা হজমের গোলযোগ বলা হয়, যা শরীরের পাচনশক্তি বা অগ্নির অসামঞ্জস্যতার কারণে ঘটে।
আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডা. রিতু কুমারীর মতে, অজীর্ণ হলে পেটব্যথা, গ্যাস হওয়া, বমিভাব, টক ঢেকুর এবং পেট ফাঁপার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যদি দীর্ঘদিন এসব লক্ষণ উপেক্ষা করা হয়, তবে কোষ্ঠকাঠিন্য, অম্লতার কারণে খাদ্যনালীতে জ্বালা বা অন্ত্রের কার্যক্রমজনিত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আয়ুর্বেদে অজীর্ণ সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
আয়ুর্বেদে খাদ্যকে শক্তি ও পুষ্টিতে রূপান্তর করার ক্ষমতাকে ‘অগ্নি’ বলা হয়।
যখন এই অগ্নি দুর্বল বা ভারসাম্যহীন হয়ে যায়, তখন শরীরে ‘আম’ নামের এক ধরনের ক্ষতিকর পদার্থ তৈরি হতে থাকে। এটি শরীরে জমে পाचन প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য শারীরিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
অজীর্ণের সাধারণ লক্ষণ
পেট ফাঁপা
পেটব্যথা বা অস্বস্তি
বমিভাব
টক ঢেকুর
খাওয়ার পর ভারীভাব
দোষ অনুযায়ী অজীর্ণের লক্ষণ
বাত প্রধান অজীর্ণ
পেটব্যথা
গ্যাস হওয়া
ক্লান্তি
পিত্ত প্রধান অজীর্ণ
পেটে জ্বালা
অম্লতা
বেশি পিপাসা লাগা
মাথা ঘোরা
কফ প্রধান অজীর্ণ
বমিভাব
অতিরিক্ত লালা তৈরি হওয়া
শরীরে ভারীভাব
অজীর্ণ থেকে মুক্তি দিতে পারে এমন ৭টি আয়ুর্বেদিক ঘরোয়া উপায়

১. আদা


আদা হজমের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি খাবার দ্রুত হজম করতে সাহায্য করে এবং পেটে তৈরি হওয়া গ্যাস ও ভারীভাব কমায়। খাবারের আগে অল্প তাজা আদা লবণের সঙ্গে খেলে হজমশক্তি বাড়তে পারে। আদার ক্বাথ পান করাও উপকারী।

২. আজওয়াইন


আজওয়াইন পেটের গ্যাস ও ব্যথা কমাতে সহায়ক। এতে এমন প্রাকৃতিক উপাদান থাকে যা পেটে হজমের রস বাড়ায়। সামান্য আজওয়াইন চিবিয়ে খাওয়া বা গরম পানির সঙ্গে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

৩. হিং


হিং পেটের গ্যাস, ফোলাভাব ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এক চিমটি হিং গরম পানিতে মিশিয়ে খাওয়া যায় বা রান্নায় ব্যবহার করা যেতে পারে।

৪. ত্রিফলা চূর্ণ


ত্রিফলা তিনটি ভেষজের সমন্বয়ে তৈরি—
আমলকি
হরীতকী
বহেড়া
এটি হজমতন্ত্রকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমানোর আগে অল্প পরিমাণ ত্রিফলা চূর্ণ গ্রহণ করলে উপকার পাওয়া যায়।

৫. মৌরি


খাওয়ার পর মৌরি চিবোলে পেটের পেশি শিথিল হয় এবং পেট ফাঁপা কমে। এটি অম্লতা ও পেটের জ্বালা কমাতেও সহায়ক।

৬. জিরা


জিরা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। জিরা পানিতে ফুটিয়ে কুসুম গরম অবস্থায় পান করলে খাবার দ্রুত হজম হয় এবং পেটের ভারীভাব কমে।

৭. আমলকি


আমলকি শরীরকে শীতলতা দেয় এবং পিত্ত দোষকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এতে প্রচুর পুষ্টিগুণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার উপাদান রয়েছে।
হজম ভালো রাখতে জরুরি অভ্যাস
সময়মতো খাবার খাওয়া
সুষম ও হালকা খাবার গ্রহণ করা
পর্যাপ্ত ঘুম নেওয়া
নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা
ধীরে ধীরে ও মনোযোগ দিয়ে খাবার খাওয়া
সতর্কতা:
এই ঘরোয়া উপায়গুলি হালকা হজমের সমস্যায় কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। তবে সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে বা লক্ষণ গুরুতর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

About Author

Advertisement