ক্রিসমাস ডে কেন পালন করা হয়, এই দিনে কী করা হয়?

merry-christmas-cartoon-cute-illustration-vector

জানুন ২৫ ডিসেম্বরের ইতিহাস, গুরুত্ব ও ঐতিহ্য

ক্রিসমাস শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি প্রেম, দয়া, শান্তি ও মানবতার প্রতীক। প্রতি বছর ২৫ ডিসেম্বর এই উৎসব সারা পৃথিবীতে ভক্তি, আনন্দ ও ভ্রাতৃত্বের সাথে উদযাপিত হয়। আসুন জেনে নিই — কেন পালিত হয় ক্রিসমাস এবং এই দিনে মানুষ কী করে।
বর্তমান সময়ে ক্রিসমাস অনেকের কাছে উপহার, আনন্দ-উল্লাস ও ছুটির উৎসব হয়ে উঠেছে, কিন্তু এর শিকড় গির্জা, আস্থা ও ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ক্রিসমাস ডে-কে খ্রিস্টধর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র উৎসব হিসেবে মানা হয়। সবাই জানে, ক্রিসমাস ঈশু খ্রিস্টের জন্মস্মরণে পালিত হয়। এই দিনে গির্জায় প্রার্থনা হয়, বাড়িঘর সাজানো হয় এবং মানুষ একে-অপরকে শুভেচ্ছা জানায়। তবে ক্রিসমাসের পেছনে রয়েছে গভীর ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব—যা অন্ধকারের উপর আলোর বিজয়ের বার্তা দেয়। ভারত মতো বহুধর্মীয় দেশেও এই উৎসব সবাই মিলেমিশে উদযাপন করে।
কেন পালিত হয় ক্রিসমাস ডে?
ক্রিসমাস, ঈশু খ্রিস্টের জন্মদিন হিসেবে পালিত হয়। খ্রিস্টীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ঈশু খ্রিস্ট ঈশ্বরের পুত্র এবং মানবজাতির উদ্ধারকর্তা হিসেবে বিবেচিত। তিনি প্রেম, ক্ষমা, সেবা ও ত্যাগের পথ দেখিয়েছিলেন। তাঁর জীবন ও শিক্ষা স্মরণে এই উৎসব উদযাপিত হয়, যাতে সমাজে দয়া ও ভ্রাতৃত্বের অনুভূতি বজায় থাকে।
২৫ ডিসেম্বরেই কেন পালিত হয় ক্রিসমাস?
প্রতি বছর ২৫ ডিসেম্বর ধুমধাম করে ক্রিসমাস উদযাপিত হলেও বাইবেলে ঈশু খ্রিস্টের সঠিক জন্মতারিখ উল্লেখ নেই। ইতিহাসবিদদের মতে, রোমান সাম্রাজ্যে ২৫ ডিসেম্বর সূর্যদেবের উৎসব পালিত হতো। এই সময়টি শীত অয়নান্তের কাছাকাছি, যখন দিন ধীরে ধীরে বড় হতে শুরু করে। চতুর্থ শতকে গির্জা, ঈশুর জন্মদিনকে ২৫ ডিসেম্বরের সঙ্গে যুক্ত করে—যাতে সূর্যের আলোর উৎসবকে আধ্যাত্মিক আলোর প্রতীকে রূপ দেওয়া যায়, অর্থাৎ অন্ধকারের পর আলোর আগমন।
প্রথম কবে এবং কোথায় পালিত হয়েছিল ক্রিসমাস?
ক্রিসমাস প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে চতুর্থ শতকে রোমে পালিত হয়। এর প্রথম লিখিত উল্লেখ ৩৩৬ খ্রিস্টাব্দে পাওয়া যায়। এরপর সময়ের সাথে সাথে এই উৎসব ইউরোপ হয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ভারতে ক্রিসমাস আসে পর্তুগিজ ও ব্রিটিশ মিশনারিদের মাধ্যমে, যার সূচনা গোয়া, কেরালা এবং পূর্বোত্তর রাজ্যগুলোতে হয়েছে বলে ধরা হয়।
ক্রিসমাসের প্রধান ঐতিহ্য:
ক্রিসমাসের দিনে মানুষ গির্জায় গিয়ে বিশেষ প্রার্থনা করে। ক্যারল গান গাওয়া হয়, বাড়ি ও গির্জায় আলো ও নানান সাজসজ্জা করা হয়। ঈশু খ্রিস্টের জন্মের আনন্দে যে গান গাওয়া হয়, তাকে বলা হয় ক্যারল। এই শুভ উপলক্ষে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো, কেক কাটা এবং একে-অপরকে উপহার দেওয়া—এসবই এই উৎসবের বিশেষ প্রথা। সান্তা ক্লজকে শিশুদের আনন্দ ও উপহারের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
ক্রিসমাসের সামাজিক ও মানবিক বার্তা:
ক্রিসমাস শুধু আনন্দের দিন নয়—এটি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সাহায্য, দান-ধ্যান ও সেবারও দিন। এই উৎসব আমাদের শেখায়, প্রেম ও করুণার মাধ্যমে সমাজকে সুন্দর করা যায়। তাই আজ ক্রিসমাস সারা পৃথিবীতে শান্তি ও মানবতার বার্তা নিয়ে উদযাপিত হয়।

About Author

Advertisement