কোচবিহারের জনসভা থেকে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় নীতির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ অভিষেকের

20260401463f-15ea71f1-a64d-4933-b3a7-1c3679f171b6

কোচবিহার: বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে ২০২১ সালের শীতলকুচি ঘটনার স্মৃতি ফের উস্কে দিয়ে নয়টি কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীদের রেকর্ড ভোটে জয়ী করার জন্য “গণতান্ত্রিক বদলা”-র ডাক দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কোচবিহারের জনসভা থেকে তিনি বিজেপি ও কেন্দ্রীয় নীতির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান এবং ভোটের মাধ্যমে তার জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান। ভিড়ে ঠাসা এদিনের এই সভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যাঁরা মানুষের উপর গুলি চালিয়েছিল, যাঁরা বাংলার টাকা আটকে রাখে, সেই বহিরাগত জমিদারদের উচিত শিক্ষা দিতে হবে।” তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালের নির্বাচনে শীতলকুচিতে যে রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটেছিল, তা এখনও মানুষের মনে দাগ কেটে রয়েছে। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, “২১-র বদলা গণতান্ত্রিকভাবে ২৬-এ নিতে হবে।”
এদিন দলের কোচবিহার জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রার্থীদের মঞ্চে নিয়ে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি যারা ইতিপূর্বে জিতেছেন তাদের কারো বেশি ভোটে জিতানোর জন্য এবং যারা নতুন প্রার্থী হয়েছেন তাদেরকেও রেকর্ড ভোটে জয়ী করার জন্য সকলের কাছে আবেদন জানান অভিষেক। অভিষেকের বক্তব্যে স্পষ্ট, এই লড়াই শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, বরং মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই।
তিনি বলেন ,কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।এদিনের সভায় তৃণমূল প্রার্থীর প্রশংসাও শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে। প্রার্থীকে “অত্যন্ত শিক্ষিত” এবং রাজবংশী সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করে তাঁকে বিপুল ভোটে জয়ী করার আবেদন জানান অভিষেক। তিনি বলেন, এই ধরনের প্রার্থীই এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের স্বার্থ রক্ষা করতে পারবেন।
পাশাপাশি কোচবিহার জেলার সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আশাবাদী সুর শোনা যায় তাঁর কণ্ঠে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন, জেলার ৯টি আসনেই জয়লাভ করবে তৃণমূল কংগ্রেস।সভায় উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, ভোটই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই সকলকে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তাঁর কথায়, “গণতন্ত্রে মানুষের রায়ই শেষ কথা বলে, আর সেই রায়েই বদল আনা সম্ভব।ভোটের আগে শীতলকুচি ও কোচবিহার জুড়ে এই ধরনের আক্রমণাত্মক প্রচার রাজনীতির পারদ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। একদিকে অতীতের ঘটনাকে সামনে এনে আবেগঘন আবেদন, অন্যদিকে ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি সব মিলিয়ে নির্বাচনী লড়াই আরও জমে উঠেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

About Author

Advertisement