সপ্তর্ষি সিংহ
শিলিগুড়ি: উত্তরে বেড়াতে যাওয়া কিংবা বাণিজ্যিক কাজের সূত্রে কয়েক দিনের সফর—সব পথই যেন মিশে যায় শিলিগুড়িতে। কলকাতা–শিলিগুড়ি যাত্রাপথ রাজ্যের অন্যতম ব্যস্ততম রুটে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। এই চাহিদার কথা মাথায় রেখেই কলকাতা–শিলিগুড়ি রুটে প্রতিদিন কম করে প্রায় চল্লিশটির মতো সরকারি ও বেসরকারি বাস চলাচল করছে। যাত্রীদের উত্তরবঙ্গের ট্রেনে টিকিট পাওয়া আর লটারি পাওয়া প্রায় একই ব্যাপার। ফলে বাগডোগরা যাওয়ার বিমানের টিকিটের যা দাম, সেটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের হাতের বাইরে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এবং উত্তরবঙ্গের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে এসি ভলভো বাস পরিষেবা।শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস ধর্মতলার বাসস্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে বাস রওনা হয়ে শিলিগুড়ির উদ্দেশে পাড়ি দেয়। ফলে ট্রাভেল অপারেটরদের কাছে এই রুট বরাবরই সবচেয়ে লাভজনক। নতুন যারা পরিবহণ ব্যবসায় আসছেন, তাঁরাও প্রথমেই এই রুটে বাস নামানোর কথা ভাবেন। বর্তমানে শিলিগুড়ি থেকে কলকাতা এবং কলকাতা থেকে শিলিগুড়িগামী মোট ১৬টি লাক্সারি বাসে রয়েছে অত্যাধুনিক টয়লেটের ব্যবস্থা। ফলে চলন্ত বাসের মধ্যেই নির্বিঘ্নে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নেওয়া যাচ্ছে। বেশ কয়েক বছর আগে কলকাতা থেকে শিলিগুড়ির মধ্যে বাস পরিষেবা বলতে ‘রকেট বাস’ ছাড়া অন্য কোনও বাসই ছিল না। সেখান থেকে শুরু করে কয়েক বছরের মধ্যে পরিস্থিতি এমন জায়গায় এসেছে যে প্রতি দিন এই রুটে বাস পরিষেবায় কালোসোনা ড্রিমলাইন, মডার্ন ট্রাভেলস, মা দুর্গা বাস সার্ভিস, এসএনআর পরিবহন, গ্রিনলাইন, রুবি পরিবহন সহ একাধিক রয়েছে। এই বিষয়ে বেসরকারি বাসমালিকদের সংগঠন অল বেঙ্গল বাস–মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন, কাঁকুরগাছির কোনো যাত্রীকে হাওড়া থেকে ট্রেন ধরতে হলে সেটা সমস্যা কিন্তু বাসে বোর্ডিং পাস থাকলে তিনি ওই এলাকা থেকে বাসে উঠতে পারবেন। যারা আর্থিক দিক থেকে স্বছল তাঁরা কমফোর্ট যাত্রা পছন্দ করবেন ফলে একাংশ যাত্রীরা অত্যাধুনিক পরিষেবায় যেতে চান। দীঘা রুটে আগে নন এসি বাস চালু ছিল এখন উঠে গেছে। ভলভো বাসের অত্যাধুনিক পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে ফলে বাস মালিকরা ব্যবসায় লাভবান হচ্ছে। বহু সময় আমরা শুনি ফ্লাইটে ডায়নামিক ফেয়ার কিন্তু এসি ভলভো বাসে ডায়নামিক ফেয়ার বলে কোনো ফেয়ার নেই। সরকার নির্দিষ্ট যে ভাড়া নির্ধারিত আছে তা সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আছে। তবে এক শ্রেণীর বাস মালিকরা যারা বিপর্যয় ও বিপদের সময় বেশি ভাড়া নেয় যা অনৈতিক। ২০১৮ সালে সরকার যে ভাড়া নির্দিষ্ট করেছে সেই ভাড়া এখনও নির্ধারিত ফলে সেই ভাড়া অনুযায়ী বাস পরিষেবা চলে। পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজ়ম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক এর সম্রাট সান্যাল বললেন ‘দক্ষিণ থেকে উত্তরবঙ্গের মধ্যে প্রতিদিন যত যাত্রী যাতায়াত করেন, তাঁরা সবাই যে ভ্রমণপিপাসু এমন নয়। কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া, চাকরি করতে আসেন এমন মানুষ, ব্যবসায়ী এঁদের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। বাস পরিষেবা উন্নত হোয়ায় এঁদের সুবিধা হয়েছে।’









