কলকাতা: কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অংশে আজ দুপুরে ভূমিকম্পের ঝটকা অনুভূত হয়েছে। দুপুর ১টা ২২ মিনিটে কলকাতায় ভূমিকম্পের ধাক্কা অনুভূত হয়। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্র বাংলাদেশের নিয়াবাজারে ছিল, যা জমি থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে অবস্থান করেছিল। ভূমিকম্পের তীব্রতা ৫.৫ মাত্রা ধরা হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগ (আইএমডি)-এর এক কর্মকর্তার মতে, ভূমিকম্প দুপুর ১টা ২২ মিনিটে অনুভূত হয়। তিনি বলেন, ভূমিকম্পটি পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে রেকর্ড করা হয়েছে। কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল বাংলাদেশে, যা কলকাতার প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে। অন্য এক কর্মকর্তা জানান, ভূমিকম্পে তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা সম্পত্তি ক্ষতির খবর নেই। ভূমিকম্পের ঝটকা প্রায় ১০ সেকেন্ড স্থায়ী হয়। প্রথম ঝটকার পরে আর কোনো ধাক্কা অনুভূত হয়নি।
ভূমিকম্পের পর কলকাতার মানুষ অফিস, বাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে। সড়কে মানুষের ভিড় জমে। অনেকেই আতঙ্কিত ছিলেন। কলকাতার রাজারহাটে বহুতল আবাসন থেকে মানুষ বেরিয়ে আসে। মানুষ শঙ্খ ও বাসন বাজাচ্ছিল। কিছু মানুষ টর্চও ব্যবহার করছিল। হাওড়াতেও ভূমিকম্পের ঝটকা অনুভূত হয়েছে। অন্যান্য জেলাগুলিতেও এমনই তথ্য পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের ঝটকায় রাজ্য সচিবালয় নবনন্দে হুলস্থুল তৈরি হয়। হঠাৎ কম্পন অনুভূত হওয়ায় কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে দফতর থেকে বেরিয়ে আসে। কিছু সময়ের জন্য সেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে এই ঘটনার ফলে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, কিন্তু অনেক কর্মী ভয়ানকভাবে আতঙ্কিত হয়েছিলেন। প্রশাসন পরিস্থিতি নজরদারি করেছে এবং সবাইকে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
কলকাতা কোন ভূমিকম্প অঞ্চলে:
কলকাতা ভূমিকম্পীয় জোন–III-এর মধ্যে পড়ে, অর্থাৎ এখানে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের সম্ভাবনা থাকে। শহরের ভেতরে খুব বড় বা ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্প কম হয়েছে, তবে আশেপাশের অঞ্চলে আসা শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রভাব কলকাতাতেও অনুভূত হয়েছে। কলকাতায় নিজস্বভাবে খুব বড় কেন্দ্রভিত্তিক ভূমিকম্প কম হয়েছে, তবে এর ভৌগোলিক অবস্থার কারণে উত্তর-পূর্ব ও নেপাল অঞ্চলে আসা বড় ভূমিকম্পের প্রভাব এখানে পৌঁছে। এই অঞ্চল ভারতের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে ভূ-টেকটোনিক কার্যকলাপ সক্রিয় থাকে।
কবে কখন এসেছে ভূমিকম্প:
১২ জুন ১৮৯৭: উত্তর-পূর্ব ভারতায় প্রায় ৮.১ মাত্রার ভূমিকম্প। কলকাতাতেও ধাক্কা অনুভূত হয় এবং অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
১৫ জানুয়ারি ১৯৩৪: ৮.০ মাত্রার ভূমিকম্প, কেন্দ্র ছিল বিহার–নেপাল। কলকাতাতেও তীব্র ধাক্কা অনুভূত হয়, কিছু পুরনো ভবনে ফাটল দেখা দেয়। এটি ছিল প্রায় ৮.৬ মাত্রার একটি বৃহৎ ভূমিকম্প।
১৮ সেপ্টেম্বর ২০১১: ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প। কলকাতায় ভবন কেঁপে ওঠে, মানুষ বাড়ি ও অফিস থেকে বের হয়ে আসে।
২৫ এপ্রিল ২০১৫: ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প নেপালে। এর ধাক্কা কলকাতাতেও স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়।
গত কয়েক বছরে বঙ্গোপসাগর বা উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে আসা মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের কারণে শহরে মাঝে মাঝে হালকা ঝটকা অনুভূত হয়েছে।
আজ নেপালে ভূমিকম্প:
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, আজ সকাল নেপালের সংখुवাসভা জেলায় ৪.৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। ভূমিকম্পে প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষতির তাত্ক্ষণিক খবর নেই। জাতীয় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র অনুযায়ী, ভূমিকম্প শুক্রবার ভোর ৩টা ১৮ মিনিটে হয়েছে। এর কেন্দ্র কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পূর্বে সংখুবাসভা–তাপ্লেজং সীমান্ত অঞ্চলের টপকে গোলা-তে অবস্থান করেছিল। ভয়েসপুর, পঞ্চথর এবং তেহরথুমসহ প্রতিবেশী জেলার মানুষরাও ভূমিকম্পের ঝটকা অনুভব করেছেন।









