কোলকাতা: এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আগাম পিটিশনে বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা গেল শীর্ষ আদালতকে। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আগাম পিটিশন দেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে শুনানিতে মেনকা গুরু স্বামীর এই আগাম পিটিশনে অত্যন্ত বিরক্ত হন প্রধান বিচারপতি।
পাশাপাশি মেনকাকে স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন, ‘সিস্টেমে ভরসা রাখুন।’ একইসঙ্গে আইনজীবী তথা তৃণমূলের সদ্য জয়ী রাজ্যসভার সাংসদ গুরুস্বামীকে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এই পিটিশন প্রিম্যাচিওর। আর এই আগাম পিটিশনের মাধ্যমে বার্তা যাচ্ছে, আপনারা সিস্টেমে ভরসা রাখতে পারছেন না।’ এরপরই পিটিশন ফিরিয়ে নেওয়ার জন্যও গুরুস্বামীকে বার্তা দেন প্রধান বিচারপতি। সঙ্গে এও বলেন, ভোটের আগে এই কাজ শেষ হয়ে যাবে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এদিন অবশ্য বলে, ‘আমরা প্রয়োজনে এই আবেদনের প্রেক্ষিতে অবমাননার নোটিস দিতে পারি। যে পরিস্থিতি এসেছে, তাতে আমরা সব পক্ষকে সন্দেহের আওতায় রাখছি।’
এসআইআর সংক্রান্ত মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। তারই মধ্যে সোমবার ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। এরপরই সোমবার মেনকা গুরুস্বামী আদালতে জানিয়েছিলেন, ‘ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে গিয়েছে। নথিও রেকর্ড করা হয়নি। তাঁরা আগে ভোট দিয়েছেন, এখন তাঁদের নথি নেওয়া হচ্ছে না।’ রাজ্যের এই নতুন আবেদন নিয়েই মঙ্গলবার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে বলতে শোনা যায়, ‘হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, ১০ লক্ষ কাজ হয়ে গিয়েছে। জুডিশিয়াল অফিসারদের কোনও প্রশ্নের মুখে ফেলবেন না, আমি কড়াভাবে বলছি।’ এরপরই ‘সুপ্রিম’ ভরসা দিয়ে তিনি বলেন, ‘জুডিশিয়াল অফিসাররা কাজ করছেন। যাঁরা জেনুইন, তাঁদের যুক্ত করা হবে।’ একইসঙ্গে তিনি মঙ্গলবার এও জানান, কোনও বৈধ ভোটার বাদ যাবে না।
এদিকে সূত্রে খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জুডিশিয়াল অফিসাররা অমীমাংসিতের তালিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, ‘রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনকে সবরকমভাবে জুডিশিয়াল অফিসারদের সাহায্য করতে হবে। যখন জুডিশিয়াল অফিসারদের লগ-ইন আইডি লাগবে, তখনই ইসিআইকে তার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।’ এদিকে রাজ্যে প্রায় ৬০লক্ষ ভোটার বিচারাধীন। তাঁদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে জুডিশিয়াল অফিসারদের ওপর। রাজ্যের প্রায় সমস্ত জেলা জজ আদালতের বিচারকরা আপাতত ভোটারদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে। কিন্তু এত অল্প সময়ের মধ্যে এত নথি খতিয়ে দেখা সমস্যার, তা বুঝতে পেরেই ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে জুডিশিয়ার অফিসারদের নিয়োগের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। দুই রাজ্য থেকে আরও ২০০ জন জুডিশিয়াল অফিসারকে নিয়ে আসা হয়।
বর্তমানে রাজ্যে ৫০৫ জন জুডিশিয়াল অফিসার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাচ্ছেন। আর এখানেই অমীমাংসিতদের তথ্য খতিয়ে দেখা শুরু হলেও সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের কেন করা হচ্ছে না, এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে এদিন সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, দ্রুত সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের করতে হবে। এদিন সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে ট্রাইবুনাল থাকবে। তাতে অনেক বিচারপতি থাকবেন। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করবে ইসিআই।









